গৃহনির্মাণ-প্রকল্প
কী হে কীর্তনিয়া
এই হৈ হৈ পান্থনিবাসের
হালচাল কিছু বুঝতে
পারছ
তুমি কি ভাবছ
রাতপরীদের হুহুন্নাতে
কিছু ধূসরতা মিশিয়ে
দিতে পারলেই
শরীর থেকে ঝরে
পড়া অক্ষরগুলো
তোমায় ঠিকঠাক
চিনতে পারবে
তুমি কি জানো
না বীজতলার প্রতি
লোমকূপে লেখা
থাকে মৌ-নাচের মুদ্রা
আমি তার কিছু
জেনেছিলাম সেই কবে
তালপাতার পাখার
কাছে সাহস পেয়ে
যখন মগ্ন ছিলাম
এক অবাক জলপানে
তখনি কচুপাতায়
টলমল করা রোদে
পোড়া মানুষদের
কয়েক ফোঁটা ঘাম
আমাকে বলেছিল
লোকাল-ট্রেনের
উলটো পিঠে থাকে
উল্কি-মেঘেদের ভেলা আর
সেখানেই খেয়া
বায় এলাডিং-বেলাডিং সই-লো
তারপর তো কতদিন
কত রাত ইট-লোহা
বালি-সিমেন্ট
আর কংক্রিটে ধাক্কা খেতে খেতে
আমি তো ক্রমশই
বাঁচার কথা ভুলে গিয়ে
এখন রপ্ত করেছি
টিকে থাকার পাটিগণিত
কখনো গরম কখনো
ঠাণ্ডা মাথা পেতে নিয়ে
এই যে কাটিয়ে
দিলাম একটা গোটা শীতকাল
আজ বিকেলে আবার
এক পশলা বৃষ্টি হল
বারান্দায় দঁড়িয়ে
খানিক ছেলেখেলা করলাম
ঝাঁ-চকচকে
গৃহনির্মাণ-প্রকল্পের অন্দরে সেঁদিয়ে
ঠোঁট-পালিশের
দামের ঘরে বসিয়ে দিলাম ৎ
হয়ত কাল ভোরের
কাগজেই কোনো নিজস্ব
সংবাদদাতার কলমে
লেখা হবে মকর-সংক্রান্তির
আকাশে বিস্তর
কাটাঘুড়ির পাশে এক নিরীহ
ভোটারের মৃতদেহটিকেও
উড়তে দেখা গেছে