Total Pageviews

Monday, October 31, 2016

অভিযোজন

অভিযোজন

ভরানদীর প্রস্থচ্ছেদ পরখ করে দেখো
অন্ধকারেরও কত শেকড়বাকড়
আর সেই সব আদিম আর্তিগুলি

পারিপার্শ্বিকে ফুটে থাকা সব স্বরলিপিতেই
মিশে গেছে পাকা-ঢ্যাঁড়সের অভিকর্ষজ

তবে কি তিনিই সেই জারুল-ভঙ্গিমা
যার কাজ জন্মান্ধ-শুভ্রতা দিয়ে উড়োজাহাজ

তিনিই তো গাঁদাফুলের সঙ্গে হাঁদারামের সম্পর্কটিকে
আরো মজবুত করে কলেজমোড়ে

ঠোঁটের কোনে যে নীরব জ্বর
সেখানেই তার ঘেঁটুপুজোর ইতিহাস

এখন তবে ক্লাবঘরে জন্ম নেওয়া ঘুর্ণিঝড়ে

যে অভিযোজিত তাকে একবার হ্যালো বলো  

Sunday, October 30, 2016

যাত্রাপালা

যাত্রাপালা

এই যে কেলেঙ্কারি অপেরার যাত্রাপালা
আমি সেখানে রাধা-বিরহ সার্ফিং করি

জলবেলুনের দেওয়া সমস্ত গ্রে-ম্যাটারকে
উলগোলা বানিয়ে চুমু ও আদর

ভাঙতে ভাঙতে ফিরে আসতে চাইছি
জাহান্নাম থেকে অশ্লেষায়

ফুলস্টপের মলাট সব দেখে আর ভাবে
একটা নদীর ইতিহাস কেমন করে
এত হাবাগোবা হয়

যে মানুষ কোনোদিন ঝুল-বারান্দার ছায়ায় দাঁড়ায়নি
সেও কিনা আজ আধখোলা কমলালেবু থেকে মাথা গলিয়ে

দেখে নিতে চায় রে রে করা এলোচুলের রাজত্বে
আমি নিজেই কখন ধানচাষ হয়ে গেছি

আর শেকড়ে জলের টান পড়লে 
কী গোগ্রাসে খেয়ে ফেলছি 

ক্যানভাসে আঁকা সব উন্মনা মেঘেদের  

Sunday, October 23, 2016

আজ বুধবার



আজ বুধবার

আজ বুধবার মুড়োঝাঁটা-রচিত পঞ্জিকা
মতে
আজ
শুক্তো খাওয়া যেতে পারে

তবে কারো সঙ্গে ইয়ার্কি করা বারণ
বউয়ের সঙ্গে তো একদম নয়

তাই দুপুরে ভাতঘুমের পর পুরোন
নীতিকথাগুলোর সঙ্গেই লুডো খেললাম

বোকাজন্মে আবার একটা শীতকাল আসছে
তা আসুক জিরাফের মুদ্রাদোষের সঙ্গে নাহয়

আরো একবার কান পাতব কমলালেবুর মসৃণতায়
আমরা যারা একদিন চুরি করে

জিরেনকাঠের খেজুর রস খেয়েছিলাম আজ
নাহয় তোমার দেওয়া অবিদ্যাগুলো
বিছানায় পেতে শুই  

চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালানো ছাড়াও
হৃদয়ের তো আরো কিছু কাজ থাকে

এই যেমন রাস্তায় যেতে যেতে কতক খুচরো গোনা
কিংবা রসকলির সঙ্গে মাখামাখি করে পৌর্ণমাসি-পালন

আজ বুধবার আজ গোরুহাটে
ছাগলের সঙ্গে মুরগিও বিক্রি হবে

হে তৎসম উপত্যকা আমার জলপিপাসা নিয়ে
এখনো এত ছেলেখেলা কি ভালো

অমাবস্যা কিংবা ভাটিয়ালি যাই হোক না কেন
সবার মধ্যে এখনো তো সেই অশরীরেরই রমরমা

Friday, October 21, 2016

রজঃস্বলা



রজঃস্বলা

যদি লেডিজ-হোস্টেলের রাস্তা
মানে হয় স্বর্গে যাবার পথ
        
বে তার দুপাশে
আমি সাজিয়ে রাখছি আমার স্বেচ্ছাচারগুলি

বৃন্দগানের আড়াল থেকে দেখছি কেমন করে
লঙ-অন বাউন্ডারিতে লোফফা-ক্যাচ তোলা

একটি হৃদপিণ্ডের খুব কাছে বসে
           হাই তুলছে ঘাই-হরিণীর দল

স্লেট-পেন্সিলে যে বর্ণমালার চাষ হয়
শেষ-বেঞ্চের এক কোনে বসে
                তুমুল বৃক্ষতায় ভরা
আমার কৃষিজন্ম যখন তা বুঝে নিতে চায়

ভাঙা-ডিঙিতে চড়ে আমি হয়ত তখন
আশ্বিন-মেঘের উর্বরতা মাপছি  

চড়ুইপাখিদের উদ্দেশ্যে লেখা
আমার সব হাতচিঠি
গোলপোস্টে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে

ব্যঞ্জনবর্ণের গা থেকে অগত্যা
আমাকেও কিছু স্মৃতি চুরি করতে হয়

এইসব গোলেমালে
ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া ছেঁড়াপাতার ভেতর
জন্ম নিতে থাকে কোনো মায়াবনবিহারিণী  

সে ওপেন ফোরামে এসে তার রজঃস্বলা ঠোঁট দিয়ে
                আমার জীবনবোধের আঁশ ছাড়ায়

আমিও আমার বদভ্যাস দিয়ে
ক্যালকুলেশন করি তার সোঁদাগন্ধ   

Thursday, October 20, 2016

ঝাপসা



ঝাপসা

গাছপাকার চারপাশে এত যে কোলাহল
মাছভাজাদের ঘিরে এত যে ঘোলাজল

ভেবো না আমি বোবা অন্ধ থবা কালা
আমি সব দেখি সব শুনি
কিন্তু কিছুই বলি না

ভাব ও অভাবের এই সংসারে
কাঁটা-চামচের ঘূর্ণিপিচে
আমি প্যাঁকাল মাছ হয়ে থাকি

তিনতলার ছাদে নদী শুকোতে দিয়েছি  
দুর্ভাগ্যের ফিচেল হাসিকে বলেছি
এখন নয় ভাই একটু পরে ফোন করো

বুকের ভিতর গেঁটেবাত নিয়ে
আমার এই কুহুডাক তেমন কিছু না

তবে এসব নিয়ে ভাবার কিছু নেই

কিপটেলোকেদের পিকনিকের ভিতর  
যে দারুচিনি দ্বীপ

আমি সেখানে
কিছু ঝাপসা রেখে আসবো

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...