Total Pageviews

Friday, February 23, 2018

রূপান্তরকামী


দিনে পর দিন ভোঁতা মোমবাতির সঙ্গে ঘর করতে করতে
আমার আর বুঝতে বাকি নেই
জিপসিনাচের পাশে
কীভাবে রূপান্তরকামী হয়ে উঠেছিল
                         নেলপালিশের চড়ুইভাতি

পুতুলখেলার দিকে খুলে যাওয়া নলখাগড়ার বনও তো
উজ্জ্বল হয়েছিল
নীলপরীদের খানদানে

উলগোলা পরিবেশিত ব্যারিকেডের অক্ষরব্রহ্মে
হালি প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিস্তর চুমু খাবার দৃশ্য

দেখে যেন মনে হচ্ছে আমি যেন এই পড়ন্ত চৈত্রবেলায়
কোনো পারবাণবিক কদমফুলের
লেখচিত্র আঁকছি

সুজলাং সুফলাং উশ্রী-জোয়ারে যত পারো নামহীন হও
আমি নাহয় হরতনের বিবির ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে
               আরো এক পিস ভূমিকম্প জুড়ে দিচ্ছি

Wednesday, February 21, 2018

ললিপপ


বাদলমেঘের মানি-পার্সে
ওৎ পেতে ছিল
ঠোঁটপালিশের সন্ধি-সমাস

কতকটা জেনে কতকটা না জেনে
আমি আত্মসমর্পন করেছি

রক্তগোলাপের স্ফূটনাংকে স্নান সেরে নিয়ে
সবুজ ঘুড়িটির হাতে তুলে দিয়েছি

অসহ্য গিরিখাতের অতল ললিপপ

তবুও রাত্রি ও নদীজলে
বিস্তর গোপনীয়তা থেকে গেছে 

Tuesday, February 20, 2018

মাতাল পথ


হাতমোজার উল্লাস থেকে বেরিয়ে আসছে
একটা আলজিভ

তারই প্ররোচনায়
তাহিতি দ্বীপের বর্ণমালা
আমাকে টেনে নিয়ে যায় 
এক নামধামহীন নৌকাডুবির দিকে

মাতাল পথ
আমি জন্মান্ধ ডুবসাঁতারের স্বরলিপি হলাম

ঈশ্বরের পাঁজর থেকে আরো কিছু অনিমন্ত্রণ
              ছড়িয়ে পড়ল
গ্রামে-গঞ্জে-প্রবাসে

Saturday, February 17, 2018

অনার্য-বীর্য


আমার ভাঙখোর মস্তিষ্ক থেকে চুঁইয়ে পড়ছে  
             এ কার জারজ-ঠিকানা

এত ভালোবাসা-গজানো রোববারে এসে  
আমি সারাদিন গাজর চিবোতে থাকি

         গাজর চিবোই
আর তৃতীয় নয়নের অধিকারী হতে চাওয়া পাতিকাকেদের
ইন্টারভিউ নিই

                          তাদের জিজ্ঞেস করি
এই মনখারাপের শহরে
পানপাতা কি ধরে রাখতে পারে
কোনো ভাইরাল অসুরের অনার্য বীর্য

    তারা যে উত্তর দেয়
সেখানে লিপিবদ্ধ হয়

কত ব্রণ-লাঞ্ছিত দিন
কত দ্রাবিড় গন্ধে দ্রবীভূত নদী

শুদ্ধাচারী মেঘেদের খোপে খোপে
                 কত শান্ত
  সেইসব জলজ-আত্মার
জন্মকথা

সুতরাং হে আমার সেলফি-মনের আটপৌরে তর্জমা
সূচিপত্র কতখানি অসুখ ধরে রাখতে পারে
         সে কথা ভেবে আর কী হবে

হুঁ-কথাতেই প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলা ঈশ্বর 
শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে
বৃষ্টি-শুদ্ধ অভিমান নিয়ে
আমার ভণ্ড আঙুলের ব্যাভিচার
কেমন নীল নীল খেলে যাচ্ছে

রৌদ্র-বালিকাদের
অন্ধ অনুপ্রাসে 

শৌখিন

একদা উটের পিঠে চড়ে
আমি হয়েছিলাম আরব বেদুইন

একদিন পাহাড়ি খাড়াই বেয়ে
খচ্চড়ের পালের পিছু পিছু
হেঁটে গেছি কত পথ

একদিন গভীর বনে চন্দনকাঠ কেটেছি
একদিন পদ্মানদীতে জাল ফেলেছি
ইলিশ ধরার আশায়  

সে হয়ত
অন্য কোনো নক্ষত্রের কথকতা

এখন ডাঁসা-পেয়ারার খাসজমিতে
আমি লিখে চলেছি
প্রেম-পদাবলি

বাঁধাকপির তরকারিতে কিন্তু
টোম্যাটো ও মটরশুঁটি অবশ্যই দিও
হে তৃষ্ণা-মাখানো দিন

আমাকে আরেকটু শৌখিন করে গড়ো 

Friday, February 16, 2018

ইকো-ট্যুরিজিম


শুধু কাশফুলের বানান মুখস্ত করেই
কেটে গেছে কত শরৎকাল

কত অদ্রবণীয় দিন
বয়ে গেছে বিনা জলপানে

নিজেকে সেলাই করা যেন আর শেষ হতে চায় না

মেঘকে দিয়েছি দুপুরের লীনতাপ
পথশিশুকে দিয়েছি শেষ-বিকেলের কাটাঘুড়ি
নদীকে দিয়েছি সন্ধ্যার উলু-রং

হাতে পড়ে আছে শুধু
রবীন্দ্রনাথ ও পাওভাজি

আর পোড়োভিটের চোখেমুখে
ইকো-ট্যুরিজিম

Thursday, February 15, 2018

অমিথ-কথা


যেখানে নদী ও ক্ষতচিহ্ন এবং চিলেকোঠার রোদ্দুর
         সাদা-পায়রার রূপ ধরে
ধান খুশি ও হরিণের ব্যাঙ্ক-অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়তে চায়
    যেখানে বৃষ্টিপাত ও বীর্যপাত গলা জড়াজড়ি করে
                     সেলফি তোলে
         সেখানেই ভর সন্ধ্যার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে
ফেরিঘাট
                              এবং
             ফেরিঘাটের গা-ঘেঁষে ডানা মেলে দেয়
   মুদিখানার ফর্দ
মুদিখানা বা ভাটিখানা
রক্তচন্দনের বেমালুমে তারা কিছু মিশরীয়ের জন্ম দেয়
                        মিশরীয় ও মিথ
সেই মিথে মিশে থাকে ডাগোর কিশোরীর সাইকেল
         ছৌ-ঝিনুকের প্রথম পাতা
             বনতিতিরের টেলিফোন-নম্বর
                          আরো কত কী
কত-কী-র কিছুমিচুতে যারা ঘটি-বাটি আঁকড়ে সংসার করে
কেতকীর উঁচুনীচুতে যারা একতারা হাতে বৈরাগী হতে চায়
অথবা কেন্টাকি-চিকেন চিবোতে চিবোতে
যারা হুঁ-কথাতেই
             ঘোড়া ছুটিয়ে দেয়
                 নতুন কোনো বদ্বীপের সন্ধানে
তারা সকলেই জেনে গেছে
             দিনভর
আমার বার্থ-সার্টিফিকেটে
কেন শুয়ে থাকে
                          এক মেঘলা বালুচর

Thursday, February 8, 2018

জারুল-সিন্ড্রোম

ধ্রুবতারার খুব কাছেই
ছাইপাঁশ দিয়ে গড়ে তোলা
একটা স্বর্গ আছে
সেখানে নাকি সুলভে বিক্রি হয়
পদ্মা থেকে তুলে আনা ফ্রেশ ইলিশ
             যাবে নাকি ভায়া
                 একদিন সময় করে
কাটা পোনার রক্ত ও সোফা-কাম-বেড
ঘুরে ঘুরে কথা বলে ছাপাশাড়ি-রচিত 
                                   ঘটি-গরম
কথা হচ্ছে
মশারি নিবেদিত মিনমিনে বেঁচে থাকায়
আরো অনেক স্মৃতি ও স্বপ্ন লিখতে হবে
কেন না তুমি আমি পক্ষীরাজ
         এবং এক আইফেল টাওয়ারের জন্মদিন
আমাদের ভাজনাখোলা আজ জারুল সিন্ড্রোমে ভিজে গেছে


Thursday, February 1, 2018

জন্মান্তরের মুহূর্ত

       
চলে যাচ্ছি
ভেলিগুড়ের ভালোবাসা বেয়ে
বিনষ্ট চাঁদমালার গর্ভে
জমে ওঠা নাটকের দিকে

জন্মান্তরের নুহূর্তে
নিজের নিশ্বাসের শব্দে নিজেই চমকে উঠি

বিকেলের প্রচ্ছদে যখন জাদুকরের বাঁশি বেজে উঠেছিল
আমি তখন আমার সমস্ত ট্যাক্স-ফাঁকি জমা করছিলাম
এক আবহমান কুনোব্যাঙের চোখে

স্কুল-পালানো রবি-ঠাকুর একটু মুচকি হাসলেন

মনে হল আমি যেন বনধুঁধুলের ফুলের মতো
কালবোশেখির ইহলীলায় নিতান্তই বহিরাগত

তখন ধুলো ও ধোঁয়ার পাশে
কুলো ও চালুনি রাখা ছিল
মধুবাবুর খামারেরর গাদা থেকে  
খড়ের আঁটি টেনে নিয়েছিল পালগোরু

আমি আর কী করে বুঝব বলো
আলোহীন অন্ধকারহীন রবিবারে
আমাকে ঘিরে আছে
এক নিখুঁত নস্যিকথার শাশ্বত ছেলেখেলা

প্রকাশ্য-সমাবেশের ভরকেন্দ্রে গিয়ে দেখি
আলতা-সিঁদুরে মেতে আছে ব্যাঙ্ক-জালিয়াতি

ব্যক্তিগত কলমদানি আর বনসাইয়ের
কথা বলতে বলতে
আউশধানের উপপাদ্যেও খুব জোয়ার এলো

আমি তখন অনলাইনে কিছু গ্রিন-রেভোলিউশন
কেনাবেচা করলাম

হাই-ইস্কুলের পেটভর্তি
মিথ্যা সবুজের ফিল্ম-উৎসব
কখন যেন
হাসতে হাসতে ঢুকে পড়েছিল
বিগবাজারের শ্রীথলির মধ্যে

নেলপালিশের গর্ভে জন্ম নেওয়া মৃদু নিম্নচাপকে বললাম
আমাকেও তোমার ড্রেস-রিহার্সেলের

একটি কমপ্লিমেন্টারি কপি দিও 

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...