Total Pageviews

Saturday, December 23, 2017

কিছু কিছু জিজ্ঞাসাহীন

অস্ফূট পাণ্ডুলিপি-খচিত নদীর পাতায়
হাইস্পিড মরুভূমির উজান-ভাটিতে
অথবা নৃত্যপটু কাঁচালঙ্কার বাগানবাড়ি জুড়ে 
         ওই যে বোঁদে-মুড়ির বহুবর্ণ ছলাৎ
             ওই যে বাঁক-ভর্তি চুমু ও চুমুকের
                      শিহরিত অটোগ্রাফ

    ও ভেক-গর্জন ও মদমত্ত দাদুরি্র বোল-বোলাও
মৃদু খননের বশীভূত নারীকে ডেকে বলো
তার ভরাকোটালের টালমাটাল আঁকড়ে
         আমি আরো খানিক জ্বলে-পুড়ে যাবো
            
ভরা-কোটাল মরা-কোটাল
                 কাঁঠালি-মেঘে বউ-কথা-কও  
         চেনা-অচেনা দারুচিনি দ্বীপের ক্ষেত্রানুসন্ধান

চায়ের পেয়ালা হাতে
    জেহাদি দুব্বোঘাসের এত ভাবুকতা
         এত সিগারেট এত সন্তান-সন্ততি
    কে জানে কার পুঁতি-মালার প্রোফাইল
কে জানে কার গর্ভ-রহস্য

ও মোমো-পিৎজা ও কট-বিহাইন্ড
অজ্ঞাতবাসের ভুঁইমালিকে ডেকে জানিয়ে দাও
পানবরোজের সহনশীলতার গায়ে আঁচড় কেটে
             আমি আরো বেশি জিজ্ঞাসাহীন হবো


Friday, December 22, 2017

হ্যালো জীবন


         আদিগন্ত মসলিন
         আদিগন্ত মসনদ
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত
         মুঠো মুঠো পলিমাটি
         ম্যাজিক ম্যাজিক ধানখেত

হ্যালো জীবন
    খনিজ হরিণ-পল্লীর অমলিন মুদিখানায়
         বাজনা বাজে
কাজের বাজনা অকাজের বাজনা
    খাজনা-আদায়ের হিসেব-নিকেশ থেকে
ব্যাভিচারী মৌমাছিরা ছুটে আসে
স্তন্যপায়ী কার্নিস বেয়ে
         হেঁটে আসে শান্তিদূত

এই আমাদের পাকশালা
এই আমাদের বিদ্যানিকেতন

             হ্যালো জীবন
 পাখি ওড়াও পায়রা ওড়াও
    গুছিয়ে রাখো সমুদ্র-জ্বর

সোনাঝুরি-লালিত জয়-পরাজয়ের ফাঁকে ফাঁকে
    আরো বেশি গয়না-বড়ি হাঁকো

         

Thursday, December 21, 2017

আগুনে ও ফাগুনে


জাদু-পটুয়ার ছবিতে ক্রমশই ফুটে উঠছে    
এক তাপ্পিমারা হৃদয়ের বিদগ্ধ কচ্ছপ

সে কি কোনো নীল মেঘের আত্মজ
অবাক বিস্ময়ের বাহুডোরে থরোথরো
সে কি এক হরপ্পা-শরীর

চুমুর অসুখ-ভরা পুংকেশরের মাঠে
ওই তো সে এখন
কুলীন নেড়িকুত্তাদের সঙ্গে ফুটবল খেলছে

কখনো আবার কুয়াশায় ভিজে যাওয়া
রেলগাড়ির কামরায় উঠে মহা আনন্দে
খানিকটা হারমোনিয়ামও বাজিয়ে নিচ্ছে

এই ঘর এই প্রাতঃরাশ
আগুনে ও ফাগুনে
যায় ভেসে যায়  
ফুলভারে নুয়ে পড়া গাছেদের
মিছিমিছি জীবনের

রুপোলি কঙ্কাল 

Tuesday, December 12, 2017

পাঁচুরাম

গরম গরম ডিমভাজা থেকে
নিমফুলের আত্মজীবনীর দিকে
অনর্গল ভেসে যাচ্ছে
আমার পাঁচুরাম দেহের কাঁচুমাচু সব  

ইচ্ছে করছে অন্নপ্রাশনের সময় যে সব ধান-দূর্বা
আমার মাথায় আশীর্বাদ হিসেবে ঝরে পড়েছিল
তাদের একবার ছুঁয়ে দেখি

কিন্তু প্লাস্টিকের হেঁসেল ঘেঁষে
আমার কি আদৌ কোনো অন্নপ্রাশন ছিল

কাঁথা-কুঁথুরির মহাবিশ্বে 
আমি কি আদৌ জন্মেছিলাম

নোনাজলের মুহূর্তগুলি হাওয়াই-চটি পরে
আমার কোষ-বিভাজনের তদারকি করেছিল
              
             নেমপ্লেট ও গেমপ্লানের দোহাই

                 সত্যিই সে ছিল তবে একদিন 

Monday, December 11, 2017

খই-চেতনা

ইচ্ছে-মাংসের বিশুদ্ধ ভাড়াবাড়িতে
যেখানে দাঁড়িয়ে আছে আমার ইহজন্ম

তারই গোপন মেঘে
রয়ে গেছে
আমার জন্মান্তরের স্ক্যানকপি

তারই করুণার নৌকোয়  রয়ে যায়
রামধনুর দেহ ও আত্মা
বিমানবালিকার ঝরাপালক
এবং ঠ্যাংভাঙা-চেয়ারের হাতল থেকে
সদ্য উঠে আসা
চন্দনকাঠের মিথকথন

তাদের কোনো কিছুকেই
ভুঁইচাঁপার ব্যাভিচার দিয়ে ছোঁয়া যায় না
     
এখন যখন মহাপ্লাবনের উলটো পিঠে
         চাঁদের স্বপ্নরা ডিনার সেরে নিচ্ছে
তখন এসো তোমাকে দেখাই আমার
খই-চেতনার হিমশৈল

মনে রেখো বেড্রুম-সভ্যতায় বেড়াতে এসেছে

             এ-এক পাখির আমি 

Friday, November 3, 2017

ছদ্মবেশ

মা বা মাটি নিয়ে আপাতত কিছু বলছি না
আলোর ভিতর কিছু স্মৃতিকথা জাবর কাটছে
আমি কি এখন আমার কষ্টের গায়ে সবুজ রং লাগাবো
প্রতিবেশীর কাছে ধার করে চাল কি ফেরৎ দেবো না
আমি কি এমনি এমনি ঘুম থেকে জেগে উঠব
চোখ খুলে দেখব না না-খুলে
কথাকে কিছুতেই উলঙ্গ করতে পারছি না
কেউ ষাঁড়েলা গলায় সংগীত সাধনা কড়ছে
মনে হয় তুমিও কিছু বলতে চাইছ
জানি না এই সব ছদ্মবেশ

কোথায় গিয়ে শেষ হবে 

Sunday, October 29, 2017

কট-বিহাইন্ড

তোমার চোখের পাতায়
এখনো যে-কটা কট-বিহাইন্ড রয়ে গেছে
ধরে নাও আমি তাদের ক-অক্ষর গো-মাংস

এবারের মকর পরবে তোমার নূপুর
কতগুলো এসএমএস টানবে সে সংবাদে
রানি মৌমাছিরা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না

তবে পাটখেত ও কাঠগোলায়
ওই তো সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে

সে ভাবে দেখলে ঢাকিদের কপালের ঘামের ক্ষেত্রে
গর্জনতেলও একটি গন্তব্য হতে পারে

ভেবেছিলাম তুলসিতলার কাছাকাছি থাকলে
পুতুল-নাচিয়েদের কোনো অসুখ করবে না

এখন আমার অনশন-সংগীতে
কেঁপে উঠছে সাঁঝবাতির আলো

অবশ্য কে কী ভাববে জানি না
আরো একবার পড়বার জন্যে
সকাল থেকেই
আমি যে কাশীদাসি মহাভারতটিকে

উলটো করে ধরে আছি 

Friday, October 27, 2017

নড়াচড়া

শস্যভূমি পেরোতে পেরোতে
পিরামিড ডাকবাক্স রেডিও-স্টেশন
মায়াবী আলোয় সেই-সব নেচে-ওঠা
                  দেখি

দেখি কেমন করে
পক্ষাঘাত ভেদ করে আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে
উলবোনার সহজপাঠ

দক্ষিণের জানলা খোলা রেখে
কেউ যেন হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে

আছে চাঁদ অর্গ্যানিক বোগেনভেলিয়ার
বেজে-ওঠা খোঁপার নিশিজলে
                  অগোপন

আছে খিদের আমোদে ক্লান্ত
সোনালি মাছেদের ঘাই-মারা খেলা

আছে আছে পুজো শেষে
গঙ্গাজলে ভেসে যাওয়া চাঁদমালা ঘিরে
সমূহ অস্তিত্বের নড়াচড়া

আসলে সে জানে প্রভু জানে
এই নেশা কত দ্রুতগামী

যাকে ঘিরে ধরেছে
হেমন্তের রোদ মেখে হেঁটে যাওয়া

            মুঠো মুঠো স্কুলগার্ল 

Tuesday, September 12, 2017

অথ গাধা-রচিত

ধরো এখন একটা আনকাট গাধা
তোমাদের কবিতা শোনাচ্ছে

সে বলছে সাদা পৃষ্ঠা থেকে মুখ তোলো
দেখো ফুলের উপর একটা প্রজাপতি বসেছে

প্রজাপতিটা কালো হতে পারে হলুদ হতে পারে
অথবা অন্য কোনো রং সচরাচর যেমন হয়

ওর রং নিয়ে তর্ক করো না
ওর ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলো না

চুপচাপ দেখে যাও একটা প্রজাপতি
বসে আছে ফুলের উপর

যাদের হাতে অ্যানড্রয়েড তারা দেখো
যাদের নাম কাটা গেছে
ভোটার লিস্ট থেকে
         তারাও

সে কোনো দেশনেতা মন্ত্রী বা সেলেব নয়
একটা সামান্য গর্ধভ বলে যাচ্ছে এসব কথা

ধরে নাও এটাই তার কবিতা 

Sunday, September 10, 2017

মোহ-মুদগর

পুরোন কাঠখোদাইয়ে দেহ ভাসিয়ে
কতখানি ভাঙাতে পেরেছি বুকের মোহর

ঘরের যে দেয়ালে আয়না প্রতিষ্ঠিত
দেখি সেখান থেকই উৎসারিত
               অনন্ত গুজব

দেই সব গুজবেই তো ভেসে চলে
অ-আ-ক-খ জনিত যত তাপ
দশ-আঙুলের সংকোচন ও প্রসারণ

দোলপূর্ণিমার ভেজা-ঘাসে
কয়েকটি খরগোশও ছুটে যায়

ও খরগোশ ও দেশান্তরের মাটি
আমার নেশার দিকে আজ
এ কোন আকাশ ছুড়ে মারো
যেখানে শুধু মোমের আলো গায়ে মেখেই
জ্ঞানকোষের আঁধার থেকে
খসে পড়া চুম্বনগুলি অঙ্কুরিত হল

শরীরে আবার মোহ-মুদগরের পোশাক চাপিয়ে
আঁশবেলার ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায়ে থাকি


নতুন কোনো সর্বনাশের রেসিপি শিখতে 

Tuesday, September 5, 2017

প্রস্তর-ব্রত

তুমি আর আমি মুখোমুখি
চোখে চোখ
মুখে কোনো কথা ছিল না

তুমি আর আমি মুখোমুখি
দুজনে দুজনের প্রতি বিশ্বস্ত
ভেঙে পড়িনি কোনোদিন

তুমি আর আমি মুখামুখি
হাতে হাত
কখনো শিথিল হয়নি মুঠো

সেই ভয়ংকর বিপদের দিনে
তুমি আর আমি মুখোমুখি

যেন একই পাষাণের দুটো ফোঁটা 

Monday, September 4, 2017

ঘাসমাটির মহাকাব্য

প্রগাঢ় গার্হস্থ্যের পাশে এই বিকেলবেলাটি
ঠিক কতখানি সুন্দর হল বলো

তার একান্ত গভীরে এই যে
কঞ্চির বেড়ার গায়ে ফুটে আছে
এত উজ্জ্বল ঝিঙেফুল
তাদের ওই হলুদ রং কতখানি  মানবিক হতে পারে

তারা কি পারবে আজ বৌদ্ধ-গুম্ফার পাশে ঘটে যাওয়া 
এত নিরীহ মানুষের হত্যাকাণ্ড নিয়ে
কোনো বিশুদ্ধ কবিতা লিখতে 

তাদের কলম কি সক্ষম হবে 
এত সন্ত্রাস এত বীভৎস এত রক্ত 
আর ছুটে পালাতে চাওয়া মানুষদের
বাঁচার জন্যে এত আকুলতা
                                   ও হতাশা
অহিংসার আঁচড়ে আঁচড়ে
এ সবকিছুই ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে


যদি পারে তাহলে ঘাসমাটির সুখ দুঃখ
এবং খোলাকুচির আলোছায়া

হয়ত আরো একটা মহাকাব্য পেয়ে যাবে

Friday, August 18, 2017

ও মুসাফির

হলুদ-নদীর ট্র্যাফিক-জ্যাম থেকে বলছি
কোনো পাতাবাহারের মনোরঞ্জনের জন্যেই হয়ত
                এত খনিজ আলিফ

প্রেসার-কুকারে সেদ্ধ হচ্ছে আমার বিদেহী আত্মা
             ও মুসাফির একটু দাঁড়াও আর
আমার জন্যে একটা আয়না আনো
একবার দেখে নিই
আমার যে লাফিয়ে ওঠা বুকব্যথা
তার হাসির সঙ্গে
ফ্যারাওয়ের ভেদবমির রিলেশনটি
এখন ঠিক কতখানি আহ্লাদের জন্ম দিচ্ছে

ও মুসাফির একটু দাঁড়াও একবার দেখে যাই
গোধূলির পাখি-সাঁতারে পুরোন কাঁথাস্টিচে জারি
আমার মনকেমনরা
এখন কেমন আছে

দাঁড়াও ঘৌড়দৌড় লতিয়ে ওঠার আগেই
শর্ট-প্যান্ট না-পরা ঈশ্বরকে

আরো কিছু নিমপাতা সাপ্লাই করি 

Sunday, August 13, 2017

পাতাল-গঙ্গা

যে কোনো অসভ্য-বর্ণের ভিতর
আমি আমার গামছা শুকিয়ে নিই

নিরামিষ-পর্বত পর্যন্ত বয়ে যায়
আমার সুরেলা অশ্বডিম্ব

যখন জোয়ার আসে
দূরের লাইট-হাউস থেকে
পেড়ে নিই কিছু নতুন খিদে

মাথানি-ষষ্টির শালুকফুল খুলে
দেখে নিই কেমন করে
কিছু ডটপেনের মৃত্যু হল
সাড়ে বিয়াল্লিশ ডিগ্রি কোণে

আমার কিছু করার ছিল না গো
আমার ফাউল-বিচ যে বড়ো
সুড়সুড়ি ভালোবাসে

তবে ধানি-লঙ্কারা কথা দিয়েছে
ডিগবাজি-খাওয়া মাঠের ধারে
লিপস্টিকের দোকান খুললে
তারা বিনা সুদে ঋণ দেবে

আমিও ভেবে দেখেছি
পাতাল-গঙ্গার না-শরীরের রহস্যে
যে গোধূলি সাঁতার কাটে

তা তো আর বুলেটপ্রুফ নয় 

Monday, August 7, 2017

বিড়ি-রচিত মহাকাব্য

পাড়ার মোড়ে 
এক যে আছে বসে-আঁকো লেখা ফ্লেক্স

তারই নীচের ফুটপাতে
 কথা-বলা ফুলের দোকান

এসব দেখি আর মনে পড়ে যায়
মাঝরাতেও মানুষের কত কাজ থাকে

যেমন গতকাল আমার কাজ ছিল
তোমাকে ফোন করা

আর তোমার কাজ
মোবাইল সুইচ-অফ রাখা

আমি তো শুক্লা-পঞ্চমী দিয়েই
মাটির পিঠে লিখে রাখি
        দিনভর অর্জিত পিপাসা

তাতে করে কি পিয়াঁজকলির স্বরলিপি
আরো তাজা হয়
             আরো গভীর

তাও জানি না তবে দেখি
যোগচিহ্নের কাছে ঋণ
বিয়োগচিহ্নের কাছে ঋণ
কখনে যেন ঢুকে গেছে ঘুমের ভিতর

সেখানে কত ঢেউ ওঠে
বেজে চলে কত টাকডুম

পরাগের বিরহ থেকে জন্ম নেয়
আরো কিছু E=mc2

আবার সেই মাঝরাতেই
মিলেট-আকাশ থেকে
খসে পড়ে উল্কাপিণ্ড

আমি খুব গম্ভীর মনে
তাই দিয়ে


         আরেকটা বিড়ি ধরাই 

Friday, August 4, 2017

বিগব্যাং-বিগক্রাঞ্চ

রাস্তার পাশে ছাগলে-মুড়নো গাছ
সারা জীবন কত কী যে দেখে যায়

অবাক হয়ে সে এখন দেখছে
আহা হিরোতে-জিরোতে কী কোলাকুলি 
সে-নাটকে আর অন্য কোনো চরিত্র নেই

আমি অবশ্য এমনিতেই এক চরিত্রহীন মানুষ
দৈর্ঘ্য নেই প্রস্থ নেই উচ্চতা নেই
জ্যামিতিতে যাকে বলে বিন্দু

এই বিন্দুতেই প্রতি মুহূর্তে বিগ-ব্যাং
সৃষ্টি হল এক নতুন ব্রহ্মাণ্ড
পরের মুহূর্তেই বিগ-ক্রাঞ্চ
         আবার হারিয়ে গেল সবকিছু

অথবা হয়ত কিছুই হারালো না
বিন্দু-গর্ভেই ঘুমিয়ে পড়ল
               ছা-পোষা গার্হস্থ্য

লহমায় লহমায় ঘুম ও জাগরণ নিয়েই আছি
                 আমি এক সত্তাহীন মানুষ
আমার দেশ নেই কাল নেই কালচারও নেই

রক্তে চিনি বেশি থাকার জন্যে শুধু

সারারাতে তিন বার বাথরুম যেতে হয় 

নতুন হাসি

তোমাদের কি জানিয়েছিলাম বহুদিন হল
         এক সুপারি কিলার লাগিয়ে
     আমার আমিটিকে গুমখুন করিয়েছি

এখন আমার গলায় যে কথা বলে
সে তো তার প্রেতাত্মা ছাড়া কিছু নয়

গাধাজন্ম এভাবেই কেটে যাচ্ছে
নেড়িকুত্তার গলা ধরে সাধনা করে বলছি
হে প্রভু পরজন্মে আমাকে নাহয় রাধা করে দিও

চারপাশ আলোকিত করে কত মেধা ফলে আছে
আমার মগজে তো আধখানা ঘিলু গোরুর
                বাকি আধটা শুয়োরের

ভাবছি দেয়ালে টিকটিকি হেঁচে উঠলে এবার
রসট্রামের আড়ালে দাঁড়িয়ে

       খানিকটা নতুন হাসি প্র্যাক্টিস করে নেব 

Friday, July 28, 2017

অনলাইন-প্রেম

আমাদের এত সেপটিক-ট্যঙ্ক লাগানো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে 
কোনো বেআইনি নারী কি 
প্রচ্ছন্ন রেখেছে তার খেয়ালি উর্বরতা 
এই ধরণের সংবাদে কারো আগ্রহ কম পড়তে পারে

তবে বন্ধুরা শুনে খুশি হবেন আমলকী ও হরীতকীর সঙ্গে 
অনাদিকালের হৃদয় উৎস থেকে ভেসে আসা প্রেমও
এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে

সেখানে অংশ নিতে গেলে দরকার 
একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেট-কানেকশন ইত্যাদি ইত্যাদি 

তবে নারকেলগাছের মাথায় চাঁদ উঠলে 
কেউ ইংলিশ কি-প্যাড ব্যবহার করবেন না বাংলা
সেটা রাজকন্যাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেওয়াই ভালো

Wednesday, July 26, 2017

পুনরুত্থান

আদ্যিকালের ধুলো ও খড়কুটোয় সুসজ্জিত
অহল্যাময় এইসব পার্থিব

সকালে টুথপেস্টের গন্ধে
আত্মপরিচয় খানিক বদলে যায়

তারপর সারাদিন
ঘোলাজল ও ট্রাফিক সিগন্যাল পেরোতে পেরোতে
বারুদের সপক্ষে কিছু সই সংগ্রহ করি

কিছু সই লুকিয়ে পড়ে
বাঁধাকপির পাতার আড়ালে

এই সময়ে পকেটের রুমাল
খুব ফ্রি-সার্ভিস দেয়

ট্রাপিজের খেলায় এক রাতকানা ঈশ্বর এঁকে
তৈরি হতে থাকি পুনরুত্থানের জন্যে 

Tuesday, July 25, 2017

তিলচাষ

দেখতে দেখতে মৌমিতার চারপাশটা কেমন যেন                      বোরোলিন হয়ে ওঠে
হালকা কুয়াশার ভিতর হাসি-কান্নার মিশেলে
গড়িয়ে গেছে যে আটচালা
তার বেঞ্চিতে বসে তালুতে মুখ ঘষি
আর হাঁক পেড়ে বলি
ওরে পঞ্চা
আমার আর ওই অস্পষ্ট কৃষ্ণচূড়ার জন্যে
দু-কাপ লিকার চা বানা বাপ
আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে
আমিও একদিন হ্যাঁচ্চো হতে চেয়েছিলাম
প্রেমে ভেসে যাওয়া শহরের পিচ-রাস্তা
আমার দিকে এগিয়ে দিয়েছে এক গ্লাস নীল-আগুন
যে নদীর উপত্যকায় এককালে দেদার তিলচাষ করেছি
লোকমুখে খবর পাই এখন সে তিন ছেলেমেয়ের মা
তবে আজ টো-টো চেপে নগরভ্রমণে বেরিয়ে
নিজেকে বেশ বাবু বাবু লাগছিল
আসলে অনেক ভেবে দেখেলাম
চৌষট্টি-যোগিনীর দোলনকাল
আর কংসাবতী-প্রকল্পের লেবু-লজেন্স

এসব মিলিয়েই তো আমার এই ঘোলখাওয়া-পর্ব 

Sunday, July 23, 2017

ধর্মবদল

অনার্সে চান্স না পাওয়া ছেলেটি দেখে
রাত্রির অন্ধকারে কাঁটাঝোপের মাথায়
কত না জোনাকির ঝিকিমিকি

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসে
শূন্যপুরাণের পাতায় এত সুপুরিবাগান
কোথা থেকে এল

হাটেবাটেমাঠে কোথা থেকে আসে এত চোরাস্রোত
রক্তমাংসের প্রবাহে সপ্তর্ষিমণ্ডলের আঁকিবুঁকিও
                   কিছু কম কথা নয়

আমাদের ঢিলেঢালা ভালোবাসার মুখনিঃসৃত
             এত ঘ্যাঁট ও ঘোঁট
         তার উপর বৃষ্টি পড়ে
রোদ হয়
তারে-মেলা ছাপাশাড়ি ভরে ওঠে কানায় কানায়

পর্ণমোচীর কাছে গিয়ে দাঁড়ালে
ডিওগন্ধে ভরপুর নাগরিক ঢংগুলির
কখন যেন ধর্মবদল ঘটে যায়

আমি বুঝতেও পারি না 

Saturday, July 22, 2017

জানা-অজানা

দেখে যাই নীলপাখির ঠোঁটে
এলোমেলো রূপের পেয়ালা
ঘন লিপস্টিক বলছে চরৈবেতি

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির আসঙ্গে আবার ওই
হুশ করে ছুটে যায় রেলগাড়ি

তোমরা জানো কি কিছু

প্রমাণের অভাব থেকে কেন এত
উঠে আসে ধোঁয়ার কুণ্ডলি

নাকে চশমা বসিয়ে গড়ে তোলা
আদমসুমারিকে নিয়ে
এত যে প্রশ্ন ও সংশয়
তারা আসলে কোন আলোকবর্ষকে পবিত্র করে

বন্ধুত্ব থেকে বন্ধুত্বে গড়িয়ে পড়া
ধ্রুবতারার আলো

লেড়ো-বিস্কুট ও মোচাঘণ্টের ককপিটে
এগরোল-পালনের একঘণ্টা পরে
চিবুকের তিলে সাঁটা ডাঁসা-সংস্কৃতি
হয়ত কিছুটা শীতার্ত হবে

তোমরা কি জানো বাছারা
গেলাসের জলে ছায়া কাঁপে
এক মিথ্যা বন্দরের

কখন কোথায় 

Thursday, July 20, 2017

বহমানতা

ওই তো সেই টইটুম্বুর
যার প্ররোচনায় আমি
সাঁতার-স্কুলে খুলে রেখেছিলাম
কত সব সংকেত-বাক্য

কুরুক্ষেত্র-যুদ্ধের পেট চিরে একদিন  
যে প্রোটিন ও ভিটামিনগুলি উচ্চারিত হয়েছিল
তাদের থেকেও তো কিছু বিদুরের খুদ তুলে এনে
মিশিয়ে নিয়েছিলাম
আমার বিহ্বলতা ও মাটির গন্ধে

চাঁদমালার স্পর্শে রোমাঞ্চিত শ্রেণিকক্ষ
রাত্রির শুভ্রতা বেয়ে কয়েকটি বাদুড় উড়ে যায়

ক্লান্ত জীবন সামলাতে সামলাতে দেখি
মাংস ও প্রতিধ্বনিতে ভেজা মাটিতে
শবসাধনার চিত্রনাট্যে
এখনো বেঁচে আছে
কাটাঘুড়ির বহমানতা
      ও মকর-সংক্রান্তি

তাহলে আর কী
অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে
ভজহরির দোকানে দাঁড়িয়ে

দু-প্যাকেট আমূল-দুধ কিনি   

Wednesday, July 19, 2017

কুলকুণ্ডলিনী

এত দিনে আমি সিদ্ধ-পুরুষ হয়েই যেতাম

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল
কিন্তু বাধ সাধলো কম দামি ইনসুলেটর

প্রথমে ভেবেছিলাম তার সে ঘুম
কুম্ভকর্ণের চেয়ে বেশি

তাই তাকে বিরক্ত না করে মূলাধারের চারপাশে
রাঙামুলোর আবাদ শুরু করলাম

ওমা কী কাণ্ড দেখি একদিন
সেই মুলোর গন্ধে তিনি জেগে উঠছেন

শ্রীমতি কুলকুণ্ডলিনীর পাক খুলছে
ওই তিনি উপর দিকে হাঁটা দিচ্ছেন

ষটচক্র ভেদ করে হয়ত এক সময়
পৌঁছেও যেতেন সহস্রায়

কিন্তু হঠাৎ শর্ট-সার্কিট
ব্যাস সঙ্গে সঙ্গে রাধারমণের গান
অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে

প্রথমে ভেবেছিলাম হসপিটালে গিয়ে
বার্ন-ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে যাই

তারপর দেখলাম না এসব নিয়ে
বেশি লোকজানাজানি করে লাভ নেই

আপাতত তিনবেলা বউয়ের দেওয়া
হোমিওপ্যাথিক বড়ি খাচ্ছি  

আর শো-কেসে সাজিয়ে রাখছি

পোড়া-ফিলামেন্টের দীর্ঘশ্বাস

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...