Total Pageviews

Friday, March 31, 2017

গাধার ডাক

গাধার ডাক

এলতলা-বেলতলা-কলতলা
সব জায়গায় ছড়ানো শ্রীরাধার মন

সবই যেন যমূনার ঘাট

হাট-মাঠ-ঘাট-আঘাটা
সবখানেতেই কৃষ্ণের বাঁশি বাজে

সবই যেন কদমতলা

রাধাকৃষ্ণের এই লীলামঞ্চে
নিজেকে বৃহৎ করতে পারি না

থেকে থেকে গাধার ডাক ডাকি

ধোপার বোঝা বইতে বইতে
পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে

মাঝরাতের গোলকধাঁধাঁয়
দিনে দিনে নিজেকে নিশ্চিহ্ন করি

কাল সকালে উঠে আর কেউ
আমাকে দেখতে পাবে না

হয়ত কোনো লুপ্ত গো-ভাগাড়ে
আমার কাটা-মুণ্ড কথা বলবে

অতলে তলিয়ে যাওয়া

মুথাঘাসেদের সঙ্গে 

Wednesday, March 29, 2017

নতুন আলপনা

নতুন আলপনা

ওই যাঃ ফোনের চার্জ শেষ
আবারো শুরু হচ্ছে

খোবলানো দেহতত্ত্বের
নতুন আলপনা

আমার মগজকে এঁটো করেছিল যে মাছেরা
তাদের লেজ ধরে সমানে ছুটোছুটি করছে
চৈত্রসেল ও ভোটাধিকার

যখন শুধু মেঘেদের উচ্চারণ দিয়ে সাজানো
তোমার দুপুর আমার দুপুর

তখনো হয়ত কংক্রিটের ভেঙচিকাটার আড়ালে
কোথাও ওৎ পেতে আছে একটা ঝলকানি

এখন পথিকেরও আর কোনো কাজ নেই

সে শুধু অস্তিত্বহীন রাস্তায় রাস্তায়
একের পর এক সেই সব মাইন পেতে রাখে

যারা মুখ খোলা শুরু করলেই এই গোলার্ধে
সব গোলকিপারের শরীরে তুমুল বসন্ত নামে

আর একটা মাটির খোপরিতে
জন্ম নেয় এক টুকরো আদিম বিশ্বাস

যা তোমার আমার পাথরের মূর্তিতে
আবারো এনে দেয় অনাবিল প্রাণের ছোঁয়া

আমি দেখি খোসা-ছাড়ানো কমলালেবুতে
কতখানি গেরিলাযুদ্ধ গোপন আছে

তুমিও আলুভাতের ছাল ছাড়িয়ে
  আতে পরিমাণ মতো

      নুন আর লঙ্কাতেল মেশাও 

Tuesday, March 28, 2017

বিচুটিনামা

বিচুটিনামা

অশাস্ত্রকারদের মত মেনে চলতে গেলে
পুঁইশাকের মাসতুতো বোন তুলসিপাতা

একজনের জন্যে ঠাকুর ঘর
অন্যজনের ঠাঁই পাকশালায়

ভ্যানিশিং-ক্রিমের মাঝের পাতায়
একথাও নাকি লেখা আছে

তুলসিপাতার অবৈধ সন্তানটির নাম হল
বিচুটি

আবার খলসেমাছের পিত্তথলি ঘেঁটে
এমন কথাও জানা গেছে

আলকুশির অভিশাপে
বিচুটির সঙ্গে কারো প্রেম হয় না

কিন্তু সবার প্রেমে মাঝেমধ্যেই
বিচুটি এসে নাক গলাতে পারে

বুঝুন তার থেকেই ড্রয়িংরুম-ড্রামার
কাহিনিতে আসে কত বাঁকবদল

বাজারে রমরম করে চলে  
কত রহস্য-রোমাঞ্চের সিরিয়াল  

সুতরাং একথা মানতেই হবে
বিচুটিকে আমরা যতই উপেক্ষা করি

যে কোনো দেবতা বা অপদেবতার চেয়ে
সে কিন্তু অনেক বেশি জাগ্রত

সুতরাং মাননীয় ধর্মাবতার
ছেঁড়া-চটির লোকসংগীতে

অতঃপর বিচুটির জন্যেও

কিছু প্রণাম বরাদ্দ করা হোক 

Monday, March 27, 2017

খুদ-কুঁড়ো

খুদ-কুঁড়ো

কাঁথা-পরবের করিডোরে
কারা যেন বিছিয়ে রেখেছে
বিস্তর উলুধ্বনি

ম্যাটিনি-শোয়ের পাশটিতে
আমার কুঁকড়ে যাওয়া দেহ

রাস্তার পাশে যে ঘাস জন্মায়
তার কি কোনো দায় থাকে
নিজেকে প্রমাণ করার

পথের ধুলো খোলামকুচি
আর নুড়িপাথরের সঙ্গেই
তার দিনরাত কুহু-খেলা

মহা-বিস্ফোরণের খুদ-কুঁড়ো ঘেঁটে
আমিও ধাতস্ত হচ্ছি

একটি আজীবনের সঙ্গে 

Sunday, March 26, 2017

চুমু নিয়ে একটি মেগা-ন্যারেটিভ

চুমু নিয়ে একটি মেগা-ন্যারেটিভ
ভাবলাম শপিংমলের ওই সিন্ডারেলাকে বলেই ফেলি এই ঝিমলি একটা চুমু দিবি।ভাবতে ভাবতেই হাঁটতে লাগলাম চুম্বনের ডাউনস্ট্রিম ধরে। দেখলাম মানব-সভ্যতা আগাগোড়া চুমু দিয়ে গড়া। গ্রিস ও রোমের চুমু নিয়ে লেখা হল একটা ট্রয়ের যুদ্ধ। ক্লিয়োপেট্রাও দেখেছিল জুলিয়াস সিজার না অ্যান্টনি কার হামিতে বেশি তরমুজের রক্ত। রামায়ণে অরণ্যসুন্দরী শূর্পনখা শ্রীরামের চুমু প্রার্থনা করেছিল আর বাবু শ্রীরঘুনন্দন লক্ষ্মণকে দিয়ে কিনা তার নাক-কান কেটে নিল। এ কোনদেশি বিচার ভাই। দেখো তার ফলাফলটাও কী মারাত্মক। রাবণ এসে সীতাকে হরণ করে নিয়ে গিয়ে দশ দশটা মুখ নিয়ে তার চুমু খাবার জন্যে অস্থির হয়ে পড়ল। কিন্তু সীতা কিছুতেই রাজি হল না। অথচ রাবণ সুযোগ পেয়েও কখনোই গায়ের জোর খাটাল না। আর্যপুত্র আর রাক্ষসরাজের এই হল আচরণগত পার্থক্য।
আবার সীতা রাবণকে ঠেকিয়ে যে চুমুগুলো রামের জন্যে যত্ন করে ন্যাপথলিনে মুড়ে তুলে রাখল চৌদ্দ বছর ধরে, রাবণকে হত্যা করে রাম সেই সব চুমু চেটেপুটে তো খেলোই সঙ্গে সীতার পেটে জোড়া বাচ্ছা এনে দিয়ে যেই পাব্লিক বলল ওসব চুমু রাবণের এঁটোকাঁটা ব্যাস রাম সঙ্গে সঙ্গে গর্ভবতী সীতাকে আবার বনবাসে পাঠিয়ে দিয়ে ভবিস্যতের জন্যে রামরাজ্যের মডেল তৈরি করে দিয়ে গেল।
এদিকে মহাভারত পর্বে এসে মহামুনি পরাশর এক মেছেনির চুমু কামনা করে তাকে মৎস্যগন্ধা থেকে যোজনগন্ধ্যা বানিয়ে নিয়ে তার হামিতে হাবুডুবু খেতে খেতে ব্যাসদেবের জন্ম দিল সেই ব্যাসদেব আবার তার মায়ের নির্দেশে দু-ভাদরবউয়ের হামি খেতে খেতে তাদের প্রেগন্যান্ট করেই ক্ষান্ত হল না এক সুন্দরী দাসির চুমু খেয়ে তাকেও আঁতুরড়রে পাঠিয়ে দিল।
আবার দেখুন কুন্তি কেমন কুমারী অবস্থাতে সূর্যদেব আর বিয়ের পর ধর্ম এবং ইন্দ্রর সঙ্গে জুটে গিয়ে চুমু-কেলেঙ্কারির নতুন কেচ্ছা লিখে ঢুকে পড়ল আদর্শ সতীনারীদের তালিকায়। তার আগে অবশ্য ইন্দ্র ও রামের  চুমু খাওয়া অহল্যা এবং পরে দেওরকে বিয়ে করা তারা আর মন্দোদরী জায়গা করে নিয়েছিল। সতীত্বের লিস্টে কুন্তিরও আগে অবশ্য আরো একজনের নাম ছিল। দ্রৌপদী। সেই দ্রৌপদী যে কিনা ধর্ম মতেই পাঁচজন স্বামীর চুমুতে ভেসে যাবার পরেও মনে মনে কর্ণের অধরসুধাও কামনা করেছিল। ভীমতো আবার রাম-লক্ষ্মণের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে শূর্পনখারই এক তুতো-বোনকে বিয়ে করল। অর্জুনও কি কিছু কম গেল! প্রথমে এক ট্রান্সজেন্ডার নারী পরে এক নাগকন্যার চুমুর সঙ্গে সহবাস করে মহাভারতের ঘটনায় কত বৈচিত্র এনে দিল।
পুরাণে আবার নিজেরা সম্মুখ সমরে অসুরদের সঙ্গে পেরে না উঠে স্বর্গের সব দেবতা মিলে এক দেবীকে তাদের সামনে এগিয়ে দিল আর দেবতাদের চক্রান্ত বুঝতে না পেরে সেই রূপমতী নারীকে চুমু খেতে গিয়ে  অসুরদাদারাও দলে দলে প্রাণ দিল।
অমন যে যোদ্ধা-কৃষ্ণ বৃন্দাবন কাণ্ডে তাকে প্রেমিক-কৃষ্ণ বানাতে তার কাছ থেকেও সব অস্ত্র-শস্ত্র কেড়ে নিয়ে বদলে তার হাত তুলে দেওয়া হল বাঁশি আর সেই বাঁশির আওয়াজ শুনে ছুটে আসা ব্রজধামের গয়লা-বৌদের চুমু খাওয়া নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেকী মাতামাতি তাদের সঙ্গে গোবিন্দের কত ফষ্টিনস্টি সেই গল্পে কবি জয়দেব তো গোপবধূ রাধাকে নায়িকা বানিয়ে কৃষ্ণের সঙ্গে তার রোম্যান্স নিয়ে গীতগোবিন্দ কাব্যটাই লিখে ফেলল যেখানে আবার কিনা একটা চুমু খাবার জন্যে অমন শ্রীবিষ্ণুর অবতারকে দিয়ে সামান্য এক গয়লানির পদসেবা করিয়ে বলালো – দেহিপদপল্লবমুদারম। তাই শুনে সমাজের কর্তাবাবুদের রাগ কত ডিগ্রি চড়ে গিয়েছিল ভাবুন। তাদের শান্ত করতে জয়দেব আবার এক গল্প ফেঁদে বলল - না না কাহিনির ওই অংশটা তিনি লেখেননি স্বয়ং ভগবান তার  অনুপস্থিতিতে তারই ছদ্মবেশ ধরে পদ্মাবতীর কাছে রাখা পুঁথিতে নিজের হাতে ওসব কথা লিখে রেখে গেছেন। জয়দেব কিছু কথা চেপে গেলেন, বললেন না যে ওই সুযোগে শ্রীকৃষ্ণ পদ্মাবতীর চুমু খেয়ে দুপুরবেলায় শোবার ঘরে তার সঙ্গে কোনো ইন্টুমিন্টু করেছিল কিনা।
আর আমাদের মহাজন পদকর্তাদের অবস্থাটাও একবার ভাবুন কৃষ্ণকে চুমু খাবে বলে রাধারানির যে অভিসার তার লাইভ-টেলিকাস্ট করার জন্যে পাকা সাংবাদিকের মতো ঝমঝম বৃষটিতে রাতের ঘূটঘুটে অন্ধকারে কাদাজবজবে পিছল রাস্তায় বজ্রবিদ্যুৎকে উপেক্ষা করে পুঁথি-কলম হাতে নিয়ে বৃষভানুনন্দিনীর পিছন পিছন ছুটে, তার যাত্রার খুঁটিনাটি বর্ণনা করে রোম্যান্টিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন রেখে গেল।
এই পসঙ্গে বিদ্যাসুন্দর-এর সুড়ঙ্গ-প্রেমের কথা আর বললাম না।

তবে যে উল্লেখটা না করলেই নয় বৈষ্ণব প্রেমরসে আসক্ত হয়ে প্রথম বয়সের রবীন্দ্রনাথও লিখে ফেলেছিলেন – সুধীরে মুখানি তুলিয়া চাও! সখি, একটি চুম্বন দাও! গোপনে একটি চুম্বন দাও!   

Friday, March 24, 2017

উলটো পথ

উলটো পথ

আগা কত নারী
আহা কত রূপ

ভাবছি আমি কি তবে
কারো রূপে মাতাল হব

না জনৈক ফেরিওয়ালা হয়ে
ট্রেনের কামরায় ধূপ বিক্রি করব

নাঃ মশাই সত্যি বলছি
খুব ভয়ে ভয়ে থাকি এই চৈত্রমাসে  

যদি কেউ আমার ক্যারেকটারে হস্তক্ষেপ করে
যদি কেউ তাকে টেনে টেনে লুজ করে দেয়

তাহলে তো আমি আর
পেঁচির-মায়ের কাছে
মুখ দেখাতে পারব না

হাড়িচাঁচারাও জেনে যাবে
আমার চানঘরের পাসওয়ার্ড

তার চেয়ে বরং শস্যের চিবুকে
তিলটি যেমন আছে
থাক না

নিজের কক্ষপথেই নাহয়
খুন হয়ে যাক আমার মৃতদেহ

রোমে গিয়ে রোম্যান্টিক হবার যে পথ
                তার পাশে কিছু মমি
     না হয় পড়েই রইল অসনাক্ত

না গো খুড়ো সত্যি বলছি
 যেদিকে লটঘট
    যেদিকে লটর-পটর    


আমি তার উলটোপথেই হাঁটি 

কুশপুতুল

কুশপুতুল

সকালের শিশির-বিন্দুতে
জমে আছে ফ্যান্টা-ম্যাজিক

রাধাকেষ্টর এত ঝুট-ঝামেলির মধ্যেও কিন্তু
মোহন-বাঁশি তার কাজ করেই চলেছে

এখন দরজির কাছে গিয়ে
বিদ্রোহ আর বিপ্লবের
বুক-কোমর-পাছার
মাপ জানতে চেয়ে কী হবে

       মনকেমনের সূচিপত্রে
সুলেখা-কালি দিয়েই আজ
      লিখে দিয়েছি নতজানু
মহানগরীর ফুটপাতে জুড়ে
জল-টেনে ফেলে দেওয়া
         কচি-ডাবেদের লাশ


বনে-বাদাড়ে ওই যে 
চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে

তাই দেখতে গিয়ে
উর্দিধারীদের সর্দি হলে

তারা কিন্তু বেদম পেঁদাবে

না বাবা আমি রাইফেলের নলে আর
রক্তবমির মালা পরাবো না

ঘাস ও ঘাসুড়েদের শ্বাস-প্রশ্বাসে
কিছু লাইফ-লাইন এখনো চালু আছে

মেঘে-ঢাকা আর্ট-গ্যালারিতে
বেগুনচাষ দেখতে দেখতে

ও ভোলামন তুই এখন
রহস্য-রোমাঞ্চের ঝালমুড়ি খা

আর একবার বদন-ভরে বল
জয় বাবা কুশপুতুল  

Wednesday, March 22, 2017

মুখোসের গলায় কথা বলি



মুখোসের গলায় কথা বলি

রেলগাড়ির কামরায় ছুটে চলেছে এক পশলা জীবন
এক ফলবিক্রেতা সেখানে বেদানা বিক্রি করছে

জানলার পাশে শিরিশের মরা-ডালে বসে
ভূষুন্ডির কাকেদের হনুমান-চালিশাপাঠ শেষ হতেই

আমার মাথাব্যথারা জানিয়ে দিল
তাদের দখল করা সব জমি-জিরেত
এবার তারা olx-এ বিক্রি করে দেবে

আমার মাথাব্যথারা আমার সঙ্গে ঘর করতে
চাক ছাই না চাক

আমার নিশ্বাসের কাছে পৌঁছলেই লাল-লাল বেদানারা  
কখন যেন নীল-নীল বেদনা হয়ে যায়

বেদনার প্রশ্রয় পেয়ে আমার মুখোসেরও
সে কী আনন্দ আর নৃত্য

আমার বেঁকে যাওয়া শিরদাঁড়াটিতে
একটি শালুক ফুল ফোটে

তখন আমি জ্যোৎস্না-বালিকাদের বলে দিই
কী ভাবে পলাশতলির ঝুমুরগানেও আছে
বেঁচে-থাকার বিস্তর বকবকানি

আসলে আমি তো মুখোসের গলায় কথা বলি
আমার যতটা বাক-স্বাধীনতা আছে
তাই দেখে গাছ ও পাখিদেরও খুব হিংসে হয়

Monday, March 20, 2017

কুচকাওয়াজ



কুজকাওয়াজ

ঘুঘু ডাকছে কোকিল ডাকছে
বসন্ত-বাতাসের নিরক্ষরতা বাড়ছে

যারা শালবনে আগুন জ্বেলে ঝরাপাতা পোড়াচ্ছে
তারা কি বসন্তের হাতছানিটিকেও বিদগ্ধ করছে

ক্রুদ্ধ পাহাড় হয়ত কিছু বলল না
কিন্তু কালবৈশাখি তো ফুঁসে উঠতে পারে

রাজপ্রসাদ থেকে মাননীয় ভাঁড়েদের গাড়ি
পাইলট ভ্যান নিয়ে ছুটে যাচ্ছে
কোনো সুলভ-শৌচালয়ের উদবোধনের দিকে

আজকের দিনটি গতকালের ফটোকপি নয়
এবং আজো একটি গাধার একমাত্র লক্ষ্য
       একটি আদি ও অকৃত্রিম গাধা হয়ে ওঠা

তবে একজন রাজনৈতিক ভাঁড়ের সঙ্গে
একটি গাধার কী সম্পর্ক
তা আমি জানি না
যারা হিল্লি-দিল্লিতে ঘোড়া কেনাবেচা করে
তারা জানলেও জানতে পারে

বসন্তের দিনগুলি কেটে যাচ্ছে
             ছেঁড়া-কাগজের ইতিহাস মুখস্ত করে

ফসল বাঁচাতে কৃষকরা ছড়াচ্ছে কীটনাশক
চৈত্রের কুজকাওয়াজে
  এক ঝঁক পায়রা বৃষ্টি হয়ে নেমে আসছে

মেরা নাম জোকার



মেরা নাম জোকার
  
বসন্তঅপেরার পালাগানে
আমি বেশ উদ্বুদ্ধ হলাম

এবং সন্ধ্যার ফাঁকা ছাদে
একা একাই কতকটা
নাচলাম ও গাইলাম

দেখলাম গাছের পাতা
আর ঝিরঝির হাওয়া
প্রচুর লাইক ও কমেন্ট দিচ্ছে

তারপর লবণাক্তের পাশ থেকে
উঠে আসা জ্যোৎস্নারাতে
যৌবনের একটি মানচিত্র আঁকলাম

তার ভেতর হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল
কত না প্রেম-প্রেম খেলা

মিলন বিরহ আনন্দ কষ্টের মাঝে
ইতিউতি উঁকি মারল রাইফেলের নল

রাষ্ট্রভৃত্যের গলাতেও শোনা গেল
           শালা-খানকির-বাচ্ছা

চৈত্রের মেঘে মেঘে যে মনখারাপ
তাও আমাকে ঘোরাতে চাইল লাট্টুর মতো

নদীর কোলে মাথা রেখে
আমি খানিক অধাতব হলাম

স্টেশনে দাঁড়িয়ে উজান-ভাটির মানুষদের
হাতে কোম্পানি-প্রোডাক্টের হ্যান্ডবিলের মতো
অকাতরে বিলি করলাম ন্যায়-বিচার 

তখনি কোথাও যেন একটা নিরামিষ
বিস্ফোরণ ঘটে গেল
রাজপুরোহিতরা ছুটল ঘন্টা নাড়তে

তখন ডগমগ বসন্তদিনের আশপাশে থাকা
তাবৎ মাকড়সা ও টিকটিকির যকৃত থেকে
উবে গেল তাদের অস্তিত্ব

এবার আমিও মগজকে শীতার্ত রেখে
নিজেরই মৃতদেহের মার্জিনে বসে
খানিক তন্ত্র-সাধনা করলাম

তারপর স্ল্যাপস্টিক হাতে নিয়ে
মিশে গেলাম জোকারদের মিছিলে

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...