Total Pageviews

Friday, March 30, 2018

মাননীয় ধর্মাবতার

জানতে ইচ্ছে করে

আজ কতজন বাচ্ছা
তাদের বাবাকে জিজ্ঞেস করল ,
-বাবা, দাঙ্গা কাকে বলে

জানতে ইচ্ছে করে

তাদের বাবারাই বা
কী উত্তর দিল

জানতে ইচ্ছে করে
আজ কতজন মা

তাদের শিশুকন্যাকে শেখাল
গুডটাচ-ব্যাডটাচ

জানতে ইচ্ছে করে
বড়ো জানতে ইচ্ছে করে

জানতে চাইছি
মাননীয় ধর্মাবতার

আপনিই বলুন

Friday, March 23, 2018

চুম্বন ও কবিতা


যখন একজন যুবতির লিপস্টিক-ভেজা ঠোঁট
একজন যুবকের গালে কপি-পেস্ট হয়ে যায়
তার নাম চুম্বন

যখন সেই চুম্বনের স্বাদ ও উল্লাস
সাদাপাতায় ডাউনলোড করা হয়
তখন তাহারে কয় কবিতা

Thursday, March 22, 2018

প্রেম ও চুলকুনি


পরপর তিন জন প্রেমিকা
টা টা করে চলে গেছে

অতিভুজের গন্ধ শুঁকে বুঝলাম
আমারই কিছু প্রবলেম আছে
কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না
             গণ্ডগোলটা কোথায়
হার্ডওয়ারে না সফটওয়ারে 

জ্ঞান হবার পর থেকেই ভাবতে শিখেছি
জীবন মানে জম্পেশ দেখে 
                      একটা প্রেম করতে হবে

কিন্তু প্রতিবারই দেখছি
মালটা জমতে জমতে জমছে না

তাই ঠিক করেছি পরের বার কেসটাকে
এভারেস্টের চুড়ো পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব
    দেখব ব্যাটা কী করে না জমে থাকে

          তাই শুনে মাঝরাতে
কোথা থেকে একটা নেড়ি এসে
দরজার কড়া নেড়ে বলে গেল

প্রেম প্রেম করে
কেন যে তোমাদের এত আদিখ্যেতা
       বুঝি না বাপু

আমাদের দেখে শিখতে পার না

দেখো আমরা কেমন প্রেমে আছি
চুলকুনিতেও আছি  

যুদ্ধ-পীড়িত


হাঁটি-হাঁটি শিশুকন্যা
পরণে স্কুল-ইউনিফর্ম

তাকে ইয়েলো কালারের বাসে তুলে দেবে বলে
যে ডাগোর-ডোগোর বউটি এগিয়ে আসে
তার মাথায় লাল-ছাতা
উথালিপাতালি সোহাগি শরীর
গতরাতের স্বামী-সুখে মশগুল

আমি কি ওই সোঁদর মুখের দিকে
কুনজর দিতে পারি
খোলামকুচি বারণ করে
হিংচে-শাক বারণ করে
তাই মাঝে মাঝে নিজেকে খুব
যুদ্ধ-পীড়িত বলে মনে হয়

তখন তো আর কনকনে দুঃখ নিয়ে
        বনে চলে যেতে পারি না
তাই চোখে সানগ্লাস ঝুলিয়ে
আড়াল করি মনের খিদে

তারপর কুলগাছের ডাল ধরে নাড়া দিই
ঝরঝর ঝরে পড়ে পাকাফল
আমি খিক খিক করে হাসি
আর ফিস ফিস করে বলি
আহা-রে হ্যাঁচকা-টান
তোর কী অপার মহিমা

Monday, March 19, 2018

মিছিলের-পা


ডিমনিটাইজেশন নিয়ে কদিন খুব হইচই তারপর জিএসটি নিয়ে কে কতটা বুঝল কে জানে তবে খবরের কাগজে বিস্তর নিউজ-প্রিন্ট খরচ হল সোশাল মিডিয়াতেও লম্বা লম্বা পোস্ট এক এক সময় এক একটা ইস্যু তৈরি হয়ে যাচ্ছে যেমন রোহিঙ্গা বিতারণ তারপর সিরিয়ার শিশুনিধন শ্রীদেবীর আত্মহত্যা ব্যাঙ্ক-জালিয়াতি লেনিনের মূর্তি-ভাঙা আর সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের কৃষকদের লংমার্চ আহা কী ঐতিহাসিক সেই মিছিল হাজার হাজার লাল-পতাকা লালা-টুপ মারকাটারি স্লোগান নেই জ্বালাময়ী ভাষণ নেই কোনো প্রেরণা দেওয়া মুখের ছবি নেই নীরব নিঃশব্দ এক দাবি আদায়ের মিছিল যেখানে ক্যামেরাতে ধরা পড়ল মিছিলের-মুখ নয় মিছিলের-পা হাজার হাজার ধুলোমাখা পা ফোস্কা-পড়া রক্তাক্ত পা সেই সব ছবিতেই আলোড়িত হল ফেসবুক ট্যুইটার হোয়াটসঅ্যাপ  

Sunday, March 18, 2018

ক্যাডার


চ্যাট করতে গিয়ে
চাঁট খাই
তবু হাল ছাড়নেবালা নই

ঘ্যাঁট খেতে খেতে ঘোঁট পাকাই
নোটবুকে টুকে রাখি লাভ-কোট
নাহলে যে ভোটারকার্ড বিশুদ্ধ হয় না

এখন অবশ্য সব সময় কোটও
আর চলে না
তাই নেট ঘেঁটে
জুতসই ইমোজি খুঁজি

সারা-জীবনই
ভালোবাসার ক্যাডার সেজে থাকতে চাই

উঠোন পেরোতে গয়ে দেখি
এক কোণে পড়ে থাকা মুড়োঝাঁটা
           কী সুন্দর রোদ পোহাচ্ছে

Saturday, March 17, 2018

ভাইরাল ভাইরাল


এবার গোধূলি-লগ্নের হেফাজতে থাকা শুভ-বিবাহগুলি
                                           হেসে ওঠে খুব 

সবিনয়ে জানাই সমস্ত গৃহ-নির্মাণ ও পিক-পকেটিং
                                          আপনাদের জন্যেই
                     সমস্ত দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও উঁকিঝুঁকি মারা
                                         আপনাদের জন্যেই
                        সমস্ত ধান-দুব্বো ও ভাই-ভাই
    এ-সবই তো আপনাদের জন্যে মাননীয়-মাননীয়ারা

ঘটজলের মন্দ থেকে উঠে এসে আমি তো এখন
           নেহাৎই এক শিশু-আয়না
        বেডকভার ও নোট-বাতিলের টানাপোড়েনে
     সম্প্রতি মাঠের ফসলও কিছুটা উতলা হয়েছে বটে
আর ব্যাঙ্ক-জালিয়াতির পর থেকে
     কচুপোড়ার জলোচ্ছ্বাসও কত ভাইরাল ভাইরাল

Wednesday, March 14, 2018

বিশুদ্ধ হিংসের কবিতা


বিশুদ্ধ হিংসে দিয়ে তোকে বেঁধে রাখি
আমার বস্তাপচা হৃদপিণ্ডের সঙ্গে
নিজস্ব রক্তক্ষরণ দিয়ে প্রতিদিন
সাজাই তোর নৈবেদ্যের থালা
মহানগরের অলি-গলি-রাজপথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা
আমার হিব্রু-বেঁচে-থাকাগুলিকে
অনুবাদ করি পাখিদের মাতৃভাষায়
চেষ্টা করি
নিজেকেও বানান-ভুল থেকে বাঁচাতে
আমার মাতাল-পায়ের হদিশ জানতে-জনতে
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা
ফুরিয়ে ফেলে তাদের মেয়াদ-কাল

কাটা-কুমড়োর দর্শন


বীজধানের ছ্যাবলামিতে মুগ্ধ এই পৃথিবীতে
একদিন যে জন্ম নিয়েছিলাম
তা বোধ হয়
কাটা-কুমড়োর দর্শন আয়ত্ব করার জন্যে

তখন সাত-তাড়াতাড়ি কারা যেন
আমা দু-হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল
রাময়ণ আর মহাভারত

সে সব পড়েও আমি অবশ্য
তনুশ্রীর ছাপাশাড়ির ভাষা বুঝতে পারিনি

কনীনিকাকেও বোঝাতে পারিনি
ভাগচাষের প্রকৃত সংজ্ঞা

তো কিছুদিন পরচুলার অন্ধকারে
আত্মগোপন করে থাকার পরে
এখন আবার
প্রিয় গাধার পিঠ থেকে নেমে এসে
ফুটপাতের দোকানে
গার্লফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে
দিব্যি এগরোল গিলছি


Monday, March 12, 2018

অ্যানিমেশন


সোনাঝুরি অথবা বহুব্রীহি-সমাসের জমিদারিতে
আমি তো কোনোদিন সার্কাসের তাঁবু ফেলিনি

তবু কেন যে এত খরস্রোত
কেন যে এত কার্পেট-বম্বিং

আমাকে ঘিরে ধরেছে কী নিবিড় এক আত্তীকরণ
স্মৃতি ও বিস্মৃতির আশ্রমে কত খেলা ফুটে আছে

কত যুগের কত পাথর ও পাণ্ডুলিপি
আমার পিছু পিছু ছুটে আসছে
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে

আমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখছে
এক লক্ষ ঝিঁঝিঁ ও জোনাকি

কী জানি রসকলি-আঁকা এক জলজ মগজ নিয়ে
এই বেঁচে থাকার অ্যানিমেশনে
আমি আর কত দূর চলে যেতে পারি

দেখা


ছেলেটির নাম দুপুর
মেয়েটির নাম রাত্রি
তাদের কি কোনোদিন
দেখা হতে পারে

নদী বলল আমি চাইলে হতে পারে
পাখি বলল আমি চাইলে হতে পারে
গরম গরম বাদামভাজা বলল
         আমি চাইলেই বা হবে না কেন

ঘাস কিছু বলল না

ঘাস যে জানে
শুধু শিশিরের আয়নায় মুখ দেখলেই
             নিজেকে চেনা যায়

Tuesday, March 6, 2018

লেনিন


ভদ্রলোক এতদিন মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল
নিরীহ নির্বিকার
নিঃশব্দ

অনেকে তাকে দেখেও দেখত না
চিনেও চিনত না

ওরা কিন্তু চিনেছিল
নিজেদের শত্রুকে ওরা সঠিক চিনেছিল

আজ সেই মূর্তি ভেঙে ওরা বুঝিয়ে দিল
একটা মূর্তিকেও ওরা কত ভয় পায়...

Saturday, March 3, 2018

গান


প্রতিদিন সকাল হলেই
গৃহিনীর কাজ রেডিও চালিয়ে দেওয়া

গান বাজছে
গান

ছেলেবেলায় যে গান শুনেছিলাম
এখন বড়ো ও বুড়ো হয়েও
সেই গান শুনছি

আমাদের ছেলেমেয়েরাও শুনছে
ওরা এখন ছোটো

ওরা যখন বড়ো ও বুড়ো হবে
তখনও শুনবে

তারপর
তাদের ছেলেমেয়েরাও

গান
কোনোদিনই বুড়ো হবে না

সে চিরকালই বলে যাবে
এই পথ যদি না শেষ হয়

Friday, March 2, 2018

শোনো চই-চই


তুমি সৈনিক হতে পারো
অথবা নাবিক

এমন ফাগুন দিনে
অজস্র জিঞ্জাসা-চিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে নাজেহাল
গৃহবন্দিদের
যে ডাক দেওয়া হচ্ছে
তুমি কি তা শুনতে পাচ্ছ

তাহলে বলো ফড়িং ও প্রজাপতিদের যে জগৎ
পড়ে আছে পথের ধুলোয়
               সেখানে কেন
                      জুতো খুলে শুয়ে থাকবে না
তোমারই নিষ্ঠুর অস্তিত্বের সব ঘূর্ণিপাক

সাদা-ওড়নার কারক-বিভক্তি নির্ণয় করতে গিয়ে
যে স্তন তোমাকে পীড়িত করেছিল

তার সামনে আমিও তো
চোরাবালি-চালিত শোভাযাত্রা থেকে
মেলে ধরেছিলাম
আমার হাভাতে আগুন

                 ধরে নাও
লোককথার আস্তিনে সমুদ্যত
                     এ সবই আসলে এক
অনাবিল জলাতঙ্কের ছোঁয়া

কোনো ধানমাঠের গেঁয়ো সন্ধ্যায়
সাদা-কালো অভ্রখনি জুড়ে
                          ওই শোনো
চই-চই চই-চই চই-চই

লাগাম


আমি যমরাজকেও এবার ঠিক হজম করে ফেলব
দেখে নিও
হয়ত সে-কারণেই
আমার ক্যাজুয়াল-লিভের দরখাস্তের উপর
ভাইরাল-ফিভারের ঘোড়া
         থেকে থেকেই
         যেন ঘুঙুর-পায়ে নেচে উঠছে

উইডিবির আড়াল থেকে
কেউ কেউ অবশ্য প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে   
আমার বুড়ো আঙুলের লাগাম
এখন ঠিক কার হাতে

Thursday, March 1, 2018

মার্কশিট


আমার ফেল করা মার্কশিট নিয়ে
নবিগঞ্জের চালের আড়তে
যা হচ্ছে তা হোক

স্কুলছুটের গভীর ও অতল পিতৃপরিচয়ে
আমি যে এত নেচে চলেছি
সেটাই বা কম কিসের

পাড়ার মোড়ের আড্ডাখানায়
লেবু-লজেন্স চুষতে চুষতে  
কংসাবতী প্রকল্পের মিথুন-রাশি এখন খুব হাসছে
                      সে-কথা জানি

তা সে যত পারে হেসে নিক না
মালাবার হিল থেকে নাহয় উড়ে আসুক
         জাদুকর কাঠবিড়ালির ছেলেবেলা  

আর উল্কাপাতের সঙ্গে ডাংগুলি খেলতে খেলতে
যদি দেখো
ভূগোলের ছাত্রীরা তোমায় ডাক দিচ্ছে
         অরুন্ধুতির সাজঘরে

তখন শ্রাবণমাসকে কি বেশি দূরে মনে হবে

4-G ব্যাটিং লাইন



বেশ তো ছিলাম ঘুঘু-ডাকা দুপুরের নির্ধারিত হয়ে
সহজিয়া মিনিবাসের ছুটি-ছুটি খেলা
কেন যে আবার
আমার চিচিং-ফাঁকের দিকে সে এগিয়ে দিল
প্লেট-ভর্তি নষ্ট-বাসমতী

এত স্বয়ংক্রিয় অগ্নিবান
এত অশুভ আনন্দ
আমাকে ভর্তি করে দিল
 শন শন কামরাঙার আজব পাঠশালায়

সেখানে প্রাক-চাঁদ ভালোবাসা নিয়ে আমিও তখন
এক-বালতি বেদনা উপুর করে দিলাম
3-G মালতি-লতার
4-G ব্যাটিং লাইন-আপে

তখন স্থাপত্য-বিষয়ক জল আগুন ও ফ্রাইং-প্যান
রোদচশমার কানে কানে জানিয়ে দিল
         শর্মার দোকানের তেলেভাজাতে
যে লঙ্কাকুচিগুলি রাজত্ব করে
তারাও আসলে
এক অধরা-মাধুরীর গর্ভজাত

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...