Total Pageviews

Tuesday, August 30, 2016

সেকি তুমি

সেকি তুমি

বর্ষাকাল এলেই
আমি ব্যাঙের ডাক ডাকতে শুরু করি

কে যেন এলোচুলে
খোলা জানলার পাশে বসে
গান ধরে দাদুরি ডাকিছে উল্লাসে

সেকি তুমি সেকি তুমি সেকি তুমি

 আবার নীল আকাশের গায়ে
 সাদা মেঘ উড়ে যেতে দেখলে
 আমার গলায় কেউ যেন ঢাক বাজাতে থাকে

 তখনও কেউ গেয়ে ওঠে
 আজ আমাদের ছুটি রে ভাই


সেকি তুমি সেকি তুমি সেকি তুমি

Monday, August 29, 2016

গাছ

গাছ

ঠাকুরমার শ্যামাসংগীত শুনে বেড়ে ওঠা গাছ
মায়ের কীর্তনগান শুনে বেড়ে ওঠা গাছ
আমাদের দাম্পত্য-কলহ শুনে বেড়ে ওঠা গাছ

গাছের ছায়ার নীচে কুকুরের নিশ্চিন্ত বিশ্রাম
গাছের ডালে ডালে পাখিদের বিস্তর কিচিমিচি
গাছের গা বেয়ে কাঠবিরালিদের অবাধ ওঠানামা

বিকেলের হেলে পড়া রোদ আর মৃদু হাওয়ায় 
আমি দেখি গাছের পাতাদের নীরব ঝিলিমিলি


দেখি আর ভাবি আমার অস্তিত্ত্বের গায়ে লেপ্টে থাকা
এই গাছ আমার না-থাকাটির দিকেও বয়ে চলেছে 

হাঁটা

হাঁটা  

কোথাও পৌঁছব বলেই তো হাঁটছি

হাঁটতে হাঁটতে খানিক থামছি 
কোনো তেমাথা অথবা চৌরাস্তায়

থামছি আর ভাবছি
এরপর কোন দিকে যাওয়া যায়

জানি যেদিকেই যাব
রাস্তার দুপাশে থাকবে
সাইনবোর্ড হোর্ডিং ব্যানার ফেস্টুন

চারপাশে এত চিহ্নের গুণগান 
আমার আর ভালো লাগে না

আমি যে আজ মাথায় শ্যাম্পু করেছি
সেও তো গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মেনে নয়

আমি শুধু এক তুমি-জ্বরে পৌঁছে

দিনভর কাগজ কুড়োতে চাই

Sunday, August 28, 2016

প্রুফরিডার

প্রুফরিডার

বটগাছের ডাল থেকে
একটা পাতা খসে পড়ে

পিছনে থেকে যায় 
অপার নৈঃশব্দ্য

চারপাশে উজ্জ্বল দুপুর
পুকুরের জলে খেলা করে
আবহমান মাছেরা

হৃদয়ের খোপে হয়ত
কিছু প্রেম ছিল একদিন

হৃদয়ের খোপে হয়ত
কিছু প্রেম রয়ে গেছে আজো

গাছ থেকে যে পাতাটি খসে পড়ল 
প্রুফরিডাররা কি তার খবর পায়

Saturday, August 27, 2016

আদি-পাপ

আদি-পাপ

নগ্ন-ইভের যোনি থেকে যদি আদম এখনি
তার প্রক্ষিপ্ত বীর্য প্রত্যাহার করে নেয়
তাহলেই কি পৃথিবী থেকে সব পাপ মুছে যাবে 

এই কথা ভাবতে ভাবতে রবিবার সকালে দাঁড়িয়ে
আমি তাকাই বিষ্যুৎবারের বারবেলার দিকে

দেখি লোডশেডিংযের ক্লাসরুমে
আমার হরফগুলিও
কত-না প্লাস-মাইনাস খেলছে

জোনাকির ছোঁয়া পেয়ে যে-সব বিপ্লব ভেঙে গেছে
ক্ষীরনদীর কূল থেকে
যদি তাদের প্রতিভা কোলাব্যাঙে নিয়ে যায়
তাহলে দেখো
হয়তো তাদের ছিপ ধরে টানাটানি করছে
কিছু মুখপোড়া ভালোবাসা

সমীরণ যতই মধুর কিংবা মাতাল হোক
আজ জ্যোৎস্নারাতে কেউ আর বনে যায়নি

নিভে যাওয়া চুলো আবার জ্বালিয়ে নিতে
রুপোলি হাঁসেরা ডুব দিয়েছে পদ্মদিঘিতে
            তাজা বাদামভাজার খোঁজে

এই ঘোর বৃষ্টিতে আমার হাসিটিও কি আজ
       ছাতা মাথায় নিরুদ্দেশে যাবে

গ্রিনরুমে আলো জ্বলছে
আমার দিকে ধেয়ে আসা জলঘোলার মোকাবিলা করতে
অতঃপর ইলেক্ট্রিক বিল দিয়েই আমি ঢেকে রাখছি
                    আমার নাভিমূলের স্বাধীনতা

গর্ভগৃহ



গর্ভগৃহ

আমার কিছু স্বপ্ন শুয়ে থাকে গরম-ভাতের সঙ্গে
আর কিছু স্বপ্ন পাখিদের ডানাকেই ভেবে নেয়
                 জলপরিদের কণ্ঠস্বর

যখন গিন্নি-মার বাটনা-বাঁটার হাতে
সমস্ত চোরাগলি বে-লাগাম হতে থাকে

আর বুকের সব লুঠপাট
খুঁজে পায় বিশুদ্ধ উৎসব

যখন মোমবাতির আলোয়
আকরিক চাঁদও ক্রমশ অলৌকিক হয়

ঠিক তখনি আমি
এই বানানো-নগরের রক্ত-মাংসে
যত অপমান জমে আছে

সব খুলে খুলে ভরে দিই
সুরেলা ক্রোমোজোম

দেখি মানুষের ব্যস্ত-প্রতিচ্ছবিরা 
নিজেদের কক্ষপথে ঘুরপাক খেতে খেতে

ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে
খানিক ক্লান্তি মোচন করছে

আর সকাল হবার আগে
আলুকাবলি-অনুমোদিত নকশি-কাঁথার

ছয় ইঞ্চি নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীজলে
তারা চুপিচুপি ফেলে আসছে

বাবুর-বাড়ির যত এঁটোকাঁটা

আমিও বেঁচে থাকার গর্ভগৃহে
ক্রমাগত সিঁড়ি ভাঙতে থাকি

এবং ভাবি আজ না হোক কাল
নিশ্চয় কুড়িয়ে পাব

মৃগনাভি বিরচিত
সেই সব বিরল হাততালিগুলি 

Friday, August 26, 2016

কাউন্টার-অ্যাটাক



কাউন্টার-অ্যাটাক

তারপর আমার নদী-জ্বর হল
ডাক্তার বলল
কোনো ওষুধে আর কাজ হবে না

ওর সারা গায়ে একবার
পানপাতায় লেগে থাকা ছেনালি ঘষে দেখতে পারেন  

সেই সংবাদ বারান্দা থেকে বারান্দায়
বয়ে নিয়ে গেল চাঁপা-রঙের হাওয়া

আমি নায়কের-প্রতীক্ষায়-থাকা ছাদে গেলাম
তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখলাম চুম্বনের ম্যানিফেস্টো

আমার টি-শার্টের দিকেও সমানে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম
বলো তুমি সেলুকাস এই কাশফুলের দেশে
শরীর বেপথু হলে তাকেও কি ফেলে দিতে হবে  

তারপর উত্তরের পৃষ্ঠা খুলে দেখি
হায় রে আমারই মিসফিল্ডিংযের জন্যে

নিবিড় মাঠে পড়ে আছে
ভৌতিক দুপুরের কিছু কথা

বন্ধুর দেওয়া সিগারেটের কাউন্টার পার্ট
শেষ করে এখন ভাবছি

অচিন গাঙে নাও ভাসিয়ে
এতদিন তো অনেক মেটালাম দারুচিনির খিদে  

এখন থেকে সারারাত দস্যু-হানার দিকে
বৃষ্টিকে আর ঠেলে পাঠাবো না

এবার বরং
কাউন্টার-অ্যাটাকে যাওয়াই ভালো

পাতালে যাবার পথ

পাতালে যাবার পথ

পাতালে যাবার পথ
এত মসৃণ ও উজ্জ্বল

সেখানেও আছে উজান-ভাটির খেলা
সেখানেও জোয়ারের জল

স্বর্গের অপ্সরা যেন সব
নেমে আসে দলে দলে

শর্ট-শার্ট ও হট-প্যান্ট
অনেক কিছুই পারমিটেড

হলুদ লাইন ক্রস করিবেন না
হাঁটুতে বাত থাকলে
ব্যবহার করুন চলমান সিঁড়ি

বৃষ্টিমানুষ



বৃষ্টিমানুষ

বৃষ্টি আমাকে রাখি পরিয়ে দিল
অজ্ঞাতবাসে আরো নিবিড় হলাম

আমি তো গাছ নই তবু
দাঁড়িয়ে রইলাম চুপচাপ
জানলার এ-পাশে

মনে হল মানুষ-জন্মেরও একটা সুর আছে
বৃষ্টির ছোঁয়ায় যার ঘুম ভেঙে যায়

দেখতে পেলাম আমার ভেতর থেকে বেরিয়ে
শিস দিতে দিতে কেউ যেন চলে যাচ্ছে
তুমুল জল-প্রণামের দিকে

আমি তার নাম জানি না

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...