Total Pageviews

Thursday, November 17, 2016

@



@

মনখারাপের কাদামাটি গায়ে লেপে
বড়ো হচ্ছে দশ-আঙুলের লোভ-লালসা

এখানে ওখানে উৎপাত পেতে রাখছে ধ্যেৎ  
ঝড়ের পোশাক পরে দোদমা পেতে রাখছে

আহা সন্ধে পুড়িয়ে বেজে ওঠা ওই হারমোনিয়াম
চেনাহীন চুম্বন আঁকতে বাঘনখ ব্যবহার করছে

শীগগিরি ফাগুনের প্রিমিয়াম মেটাতে হবে
অথচ এখনো জানতে পারলাম না
                আমার জলপিপাসার রেট কত

Sunday, November 13, 2016

নশ্বরতা

নশ্বরতা

সহজপাঠের ময়দানে আমার তীর্থভ্রমণজুড়ে  
তীব্র হয় এলোচুলের থেরিগাথা

নীল-বালিকার জিভ থেকে ঝরে পড়ে
নিষিদ্ধ লালা

রাত্রির যোনিপথে জোনাকিদের মিছিমিছি

জানি না কতখানি চাষযোগ্য এই ধ্বংস
তবু আমি তার কাদাজলেই পুঁতে দিই

আমার নশ্বরতা 

Saturday, November 12, 2016

মালটা

মালটা

সকাল থেকে সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে বসছি
আজ একটা জম্পেশ করে চচ্চড়ি রাঁধতে হবে

হাতের কাছে যা পাচ্ছি একের পর এক
তাই ছুড়ে দিচ্ছি গরম কড়াইয়ে

ভিড় বাসের দুর্গন্ধ ছড়ানো পুরুষ
তার পাশে দাঁড়ানো সুরভিত নারী

রাতের গলি মাতালের চিৎকার
ঈশ্বরের মুখ কেলোকুকুরের পঁদ মুড়োঝাঁটা 

এক মুঠো লু দুচামচ হনলুলু
বেকার সমস্যা নিয়ে বাক্য রচনা

চাঁদের সিক্স-প্যাকটা না হয়ে পচে গেছে কিন্তু
ফাটা গোড়ালির মাস্তানিটা যে কোথায় রাখলাম

সিম-কার্ডের সুখ-দুঃখও কিছু থাক
আরে এই তো পাঁচটা বাতিল হাজার
আর সাতটা পাঁচশোর নোটও এসে গেছে

এর উপর যদি স্যালাইনের ছুঁচের সঙ্গে কিছু
বিমানসেবিকাদের সন্ত্রাস গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিই


মালটা কেমন দাঁড়াবে কে জানে 

Friday, November 11, 2016

সন্তানসম্ভবা

সন্তানসম্ভবা

চাঁদ ফুল পাখি নিয়ে কত কথাই তো হল
এবার নাহয় জোনাকির কামড় খেয়ে
রাজকন্যার বিকার শুরু হোক
তার দাঁতে আবার পায়োরিয়ার সমস্যা

মলিবৌদির লোনা বাহুমূলে মৌমাছির ঝিকিমিকি-ব্যান্ড  
কচি মেয়েদের পাঁউরুটিতে কিছু প্রশ্ন বেশ উঁচু হয়ে থাকে
যে মেয়ে গাঢ় ওষ্ঠ ছুঁইয়ে বিষাদের বাইপাশ সার্জারি করে
সে তো হাফ-নদী হাফ-বিড়ালাক্ষী
তার বিধূমুখে ও-কিসের গন্ধ ছোটে 

কোথাও যেন এক নির্জন দ্বীপে
সারাদিন বেজে চলে ডোরবেল
ঈশ্বরের থাইরয়েড ফুঁড়ে বয়ে যায়
মাতালের হরিধ্বনি
পৌত্তলিক উপাসিকার চোরাকুঠুরিতে এসে
রক্তজবা পুড়িয়ে দেয় দানবের বাক-স্বাধীনতা

যে ঢেউগুলি কৃষ্ণচূড়া হতে চেয়ে ছিল
কুলকুণ্ডলিনীর জলরঙে এসে এখন
তারাও যেন খেই হারিয়ে ফেলে

চেনা পথের ধারাগোলে অচেনা মুখের সংগীত
কিছু অকাল-ফাগুনের জন্ম দেয়

সহজপাঠের মাঠে এইসব দৃশ্য-লোফালুফির খেলা
চলতেই থাকে

মুদ্রিত রোদ ছিঁড়ে

রাত্রির কথকতাও বুঝি ওই সন্তানসম্ভবা হল 

Wednesday, November 9, 2016

গুহাপালিত



গুহাপালিত

বদরক্তের কণ্ঠস্বর নিজের বুড়ো আঙুল চুষতে চুষতে
একটা বড়ো ফাটলের দিকে চলে যেতে চাইছে

গভীর জলের মাছ না হতে পারা নারকেল গাছটি ভাবছে
সন্ধ্যাতারাটিকে যদি মাথার মুকুট করে পরে নেওয়া যায়

লাউডস্পিকারে ভাসিয়ে দেওয়া গানে কি আজ সত্যিই
ভিজে যাবে কাটা-মুরগির আয়ুরেখা

দোকানে দোকানে ভিড় করে আছে গুহাপালিত মানুষেরা

হায় পাখি এই ঘোর অবেলায়
তুমি কার ভীমরতি নিয়ে ঘরে ফিরে যাও

Monday, November 7, 2016

অভিভাবক



অভিভাবক

নিজের কোমরের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আমারই সন্দেহ আছে
তবু বলি শ্রীমান ঈশ্বর শুধু যে রাতকানা তাই নয়
জেনে রাখুন তিনি দিনেও কিছু দেখতে পান না

আর মুশকিল হচ্ছে স্বর্গে কোনো চোখের ডাক্তার নেই
আমার হৃদয়ও আর মিথ্যে সাক্ষী দিতে রাজি নয়

হুঁজুর ধর্মাবতার তাই বলে ভাত-রুটির সংবাদে
আমি কখনোই গুঁজে দেব না খোঁড়া ঘোড়াদের চাল

অথচ গাছেদের হাঁটাহাঁটি তাদের নীরবতা থেকে
আমাকে বহিষ্কার করেছে বহুদিন

কিন্তু অনেক ভেবে দেখলাম যারা খুব ভোরবেলায় উঠে
নিজের ঠাকুরের পুজো দেবার জন্যে পরের বাগানে ফুলচুরি করে

সেই সব নায়ক-নায়িকারাই আমার সমস্ত অন্যমনস্কতার অভিভাবক 

Sunday, November 6, 2016

নকল-প্রেমিক



নকল-প্রেমিক

উলঙ্গ-ঠাকরুণের বুকের-দুধে হাত রেখে
আমি নিরাসক্তি পালন করি

বাজারের মিনু-খেপিকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে
কঠোর বৈরাগ্যের সাধনায় মজে যেতে যাই

শরীরে ঢক-ঢক করা করোটিতে ঠাসাই হচ্ছে  
পথ-নাটিকা থেকে উঠে আসা তীব্র মন্বন্তর

তুমুল ঘোড়ালিপি দিয়ে ভাঙা-জন্ম মেরামত করছি
কত দূর বলো আর কত দূর সেই ফলিত চকোলেট

ও-হো-হো ঝলসানো নদীর-গল্পে
হঠাৎ কি কেউ বলে উঠল
কী হে ওস্তাদ তুমি তো এক নকল-প্রেমিক

তবে যে যাই বলুক অথবা এই নিশিডাক
আমাকে যে আঘাটাতেই নিয়ে যাক আমি জানি

আমার ঘেমো-গন্ধের টানে দাঁড়কাকেদের
ঠোঁটে ও নখে আজ ঠিক বৃষ্টি হবে  

বিষ-লাবণ্য



বিষ-লাবণ্য

মুখ নয় সুখও নয় মনতিতিরের পারিবারিক  
অ্যালবামে সাঁটা থাকে কিছু মুখোস
আমি তাদের চোখের জল মুছিয়ে দিই

লাভবার্ডের মুখে-হাসি পথচলাটিকেও আজ
ভর্তি করা হল সেভিংক্রিমের শ্বাসকষ্টে
এই জলস্রোত এত বদরাগি হল কেন  

ওই যে স্বপ্ন স্বপ্ন উজানলিপি
সে নাকি খুব ডিমসেদ্ধ ভালোবাসে
আর আমার স্নায়ু-দুর্বলতায় সে কেবল
কাঁচা ধনেপাতা ছড়িয়ে দেয়

প্লেটোনিক কদমফুলে অন্ধ মৌমাছিদের আনাগোনা
দেখে গন্ধ-সাবানের দ্বীপে চির-নির্বাসিত
কুয়াসা-সুন্দরীরা কেন যে শুধুই হেসে যায়

তাদের সুতীব্র সাদাপাতায় কালপুরুষের
ডানা থেকে ঝরে পড়ে বিস্তর বদনাম

এদিকে নভেম্বরের জ্যোৎস্না আমার হাতে
ধরিয়ে দিয়েছে একটা পাতাছেঁড়া গীতাঞ্জলি

আমি এখন আর কী করে বলব
দুদুভাতুর আরেক নাম রাঙামুলো  

তার চেয়ে আয় রে আমার নৌকাডুবি
আরো কাছে আয়

আমি তোর বিষ-লাবণ্য চিবিয়ে খাবো 

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...