Total Pageviews

Tuesday, February 28, 2017

ইনকাম-ট্যাক্স



ইনকাম-ট্যাক্স

কে ভাই তুমি এই নৈসর্গিক
আলোছায়ায় এসেছ

চুমুর উপর ইনকাম ট্যাক্স বসাতে  

তিন-পাত্তি প্রেম আমাদের
পুনর্জন্মের মামলাও আমাদের

ভোরের চরিত্রে কুয়াসার অনুপাত কী হবে
সেটা না হয় আমদেরই ভেবে দেখতে দাও

খনিজ জোয়ারভাটার দখল নিতে এসেছ অথচ
তুমি তো সমুদ্রমন্থনের পাশওয়ার্ডই জানো না

সুতরাং মৌপলাশের বনে ইতিউতি
মালসাভোগের সন্ধান না করে

উড়ালপুলের ইচ্ছের কাছে তুমি বরং
কিছু ঝালমুড়ি চেয়ে খেতে পারো

অথবা হিসেব কষে দেখো
সুইমিংপুলের গা-ছমছম জলে

পড়ে আছে
কতগুলি মালিকানাহীন ছোবল

Monday, February 27, 2017

মুখোমুখি

মুখোমুখি  

ঋ এর পিঠে ৯ বসাতে বসাতে
যখন আমি প্রায় পৌঁছে গেছি  

পোকাধরা আতপচাল বিরচিত
মৌর্যযুগের চৌকাঠে

ঠিক তখনি তুই
ঝোড়ো-হাওয়ার পরিচয়পত্র হাতে
দরজায় এসে দাঁড়ালি

আমার সাধের লাউঘণ্টকে শোনালি
কাটাপোনার রক্তমাখা কমলালেবুর রসাতল

তোর হার্টবিটের আঁকাবাঁকা গ্যাল্কাসিতে খানিক
হাডুডুবু খেল আমার গর্ভবতী চেতনা

বনলতাকে জানতে গিয়ে অন্ধকারে যখন  
এত সব মুখোমুখি-র চাষ হয়েই গেল

তখন কিসের এত হাতমোজা
কিসেরই বা সব এসএমএস

বরং তোর কাছে এখন আমি
কিছু অসময় ভিক্ষে করে নিই

তুই কি হাট করে খুলে দিবি  
তোর রিংটোনের দরজা

যদি দিস যেদিন দিবি

সেইদিন এক দেশলাইকাঠি নিরক্ষরতা জ্বেলে

তোকে আমি দগ্ধ করে ফেলবো 

ফরাসি-বিপ্লব

ফরাসি-বিপ্লব

পালংশাকের গতজন্মে
শীত কিছুটা কম পড়েছিল

একথা বলতে আমার খুব লজ্জা লাগে
যদি লোকে আমায় অশ্লীল ভেবে বসে

গেঁটেবাতের মেনুকার্ড থেকে তুলে আনি
সকালের খ্যাংড়া-ঝাঁটার সঙ্গে
ধুলো-বালির কিছু চু-কিৎ-কিৎ   

বনমুরগিদের পাতে
কলঙ্ক পরিবেশন শেষ করে

নিজেই নিজের ডেডবডিকে বলি

ও ভোলামন দারুচিনি বাগানের পথে
তুই এক ডেলি-প্যাসেঞ্জার হয়ে যা

ছেঁড়া-চপ্পলে লুকিয়ে ফেল

তোর ফরাসি-বিপ্লব

Sunday, February 26, 2017

অসুন্দর

অসুন্দর

বুকের উপত্যকায় এত অসুখ জমিয়ে রেখে
কেমন করে চলাফেরা করো তুমি

দুপুর রোদে কেমন করে বজায় রাখো
কালপুরুষের নম্রতা

ছাপার অক্ষরে স্বাস্থ্যবতীরা আসে যায়
জলডাহুকিরা নিয়ে আসে কত অচেনা অজানা
শালিকের ঠোঁটে নাচে ভাদুগান


তুমি কি শুধু হিজল-রঙের হাতছানি মানো
তুমি কি কেবলি দেখো
 হলুদ শস্যের মাঠে গাঙচিল উড়ছে

কার্নিস থেকে ঝুঁকে আছে যে বিড়াল
তুমি কি তাকে মাতৃস্নেহ পান করাবে

তুমি কি ওই গড়াপেটা সুন্দরেই
নিজেকে লুকিয়ে রাখবে চিরকাল

জন্মান্ধ নদীর জলে স্নান করে
অন্তত একবারও কি
           কিছুটা অসুন্দর হবে না


Saturday, February 25, 2017

বাগদত্তা

বাগদত্তা

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে
অনন্তও জেগে আছে

অনন্ত কর্মকার 

তার সামনে অঢেল গতরের 
পাকদণ্ডী বেয়ে উঠে যাওয়া
নৃত্যশিল্পের আহ্বান

ময়ূরঝর্নার পাশে আলতামিরার গুহাচিত্র
আহা আলতামিরা গো
তোর আঁকিবুঁকির গোঁজামিলে
এক নড়বড়ে হৃদয়ের প্রতিধ্বনি

আধবোনা উলগোলা থেকে  
             সাপও আসতে পারে
             পাপও আসতে পারে

রামধনুর বাগদত্তা এ জীবনে
আমি রাজা
           আমিই ফকির  

আঁশটে-গন্ধ

আঁশটে-গন্ধ

ছেলেরা ঝারি মারছে মেয়েদের
মেয়েরা ঝারি মারছে ছেলেদের

এইসব ঝারি-মারামারি
যখন ঝিরিঝিরি হয়ে ঝরে পড়ছে
         অন্ধকার গাছতলায়
পার্কের বেঞ্চে
ভিকটরিয়ার ঘাসে
তখন চিকেন-বিরিয়ানির সেল বাড়ছে

প্রভু-আমার প্রিয় আমার
তোমার এলোমেলো হাওয়া

আমার সাদাপালে
কেন এত খচ্চড়ি জুড়ে দেয়

আমি এত ভুলভাল বকি

রাজমুকুটের ভিতর যে ফাঁপা ও কাঁপা
সেখানে আমি প্রলয় ও পিপাসার
চচ্চড়ি রাঁধতে বসি

ভেসে-যাওয়া মেঘেদের লক্ষ্যহীনতা থেকে
কিছু কথা উড়ে আসে
আমার সঙ্গে পরিচয় করতে

আমি তাদের ড্রয়িং-রুমে বসাই
এসি চালিয়ে দিই
কোল্ড-ড্রিংস পরিবেশন করি

ফিরে যাবার আগে
তারা বলে যায়

তোমার ধ্বংসস্তুপে

বড়ো বেশি আঁশটে গন্ধ হে  

Friday, February 24, 2017

কুমারসম্ভব

কুমারসম্ভব

আজ শিবরাত্রি

এপাড়ায় ওপাড়ায় অলিতে গলিতে
শিবমন্দিরগুলো খুব সেজে উঠেছে

আজ সন্ধে নেমে এলেই

লর্ড শিবেরা সাজবে হই-হই
লেডি পার্বতীরা সাজবে থই-থই

পঞ্চশর হাতে নিয়ে
তখন মদনব্যাটাও রেডি

আজ কোনো প্রেম দিবস নয়
         হতে পারে
আজ এক অঘোষিত গেম-দিবস

ওহে কালিদাস আজও কি তুমি
শিব-পার্বতীদের প্রসব করা

সেই প্যারাডিম ভাজাই খাওয়াবে

নাকি চিকেন-চাউমিনের পথে হাঁটবে 

Thursday, February 23, 2017

জল ডাকছে

জল ডাকছে   

রুমাল বেড়াল চশমা হালখাতা
এক আখাম্বা-তপস্যায় মগ্ন আলতাপাটি  

সবই ছায়ার খেলা
সবই অলীক মায়া
ও-রোদ তোর সুবর্ণ-মুখ

জল ডাকছে রমণীমোহন
জলযান বলছে হরিশচন্দ্র

আকন্দফুলে যে কুয়াসা
সেখানে বসে আছে্ন এক ব্যাধ
তাকে চোখ মারছে শাকের-আঁটি

ভাঙা কালভার্টের স্বর্গে এসে
ডিম পেড়ে গেছে পুষা-নক্ষত্র

ধরো ভেলিগুড়ের হেডলাইটে প্রতিদিন
এত যে পুংকেশরের সন্ধান  
       সেখানে চিল্কাহ্রদও তো অবিনশ্বর নয়

                                         জল ডাকছে
                                          জোনাকিও ডাকছে 
প্রতিদিন খিদে পায়


প্রতিদিন থেঁতলে যাই 

ওরাং-ওটাং কবিতা

ওরাং-ওটাং কবিতা

হৃ-গন্ধে মাতাল হতেই
এই গর্ভে ফিরে ফিরে আসা

কামিনীতলা সব জানে

তোমার ওরাং জানে
আমার ওটাং জানে

তুলসিতলার সন্ধ্যা-প্রদীপটিকে
উজ্জ্বল করেছিল যে অন্ধকার
সে তো কবেই ভেসে গেছে
           চিতাভস্ম হয়ে

এখন ঝুলকালির ঢলানিতে
নাক ডুবিয়ে বলি

সোনার কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা


উবুদশ

উবুদশ

আমি তো তাকে খামচে খামচে জানি

সেই-যে সেই তাথৈ জল  
যার পায়া ভারী হয়ে আছে  
মেহেদি রঙের লীনতাপে  

এখানে যে সদ্য চোখ মেলতে থাকা কাকভোর
যখন কারো কারো আগুনমুখী সিগারেটে
ক্রমাগত পুড়ে যাচ্ছে খামোকা-ঈশ্বরের প্রস্থচ্ছেদ

রুপোর সিঁদুর-কৌটোয় ওলটপালট খাচ্ছে
শূদ্র-কিংশুক বিরচিত প্রেমের মহাভারত

এখন উন্মাদ মেঘেদেরও যেন মদে পেয়েছ
প্রজননে অংশ নিয়ে একজন জনক সাজছে
                     একজন জননী

কিন্তু কাঁথাশিল্পের ঘি-চপ-চপ উবুদশ নিয়ে
আমারই বা এত ডানা-ঝাপটানো কেন

বড়শিতে গাঁথা লিপস্টিকের টোপ গিলবে বলে
এখানে লাইন দিয়ে আছে
            কত বড়ো বড়ো রুইকাতলা

আমি তো একজন ছা-পোষা কণ্ঠিধারী মাত্র

রোগা গার্হস্থ্যের পদচিহ্ন ধরেই
আমার এই এগিয়ে যাওয়া

আমার হাঁটা-পথের দুপাশে হাই তুলছে
বৃষ্টি ও বিস্ফোরণ

আমার ঘামেভেজা রুমালের আশেপাশে
ঘুরঘুর করছে কিছু গোঁফ-কামানো বেড়াল

তাদের হাবভাব দেখে যেন মনে হচ্ছে
শেষকালে আমার ভোলেভালা ট্রাফিক-জ্যামে

হয়ত একদিন জনৈক কানা-বেগুনের মগজ এসেও

               বীর্যপাত করে চলে যাবে   

Wednesday, February 22, 2017

সেক্সোডেন্ট



সেক্সোডেন্ট

বুঁচকিরানীর সেক্সোডেন্ট হাসির মুখোমুখি হলেই
আমি কেমন যেন কুঁচকে যাই

তখন আমার কুঁচকিতে ভীষণ টান পড়ে
আমি ক্রমাগত হেঁচকি তুলতে থাকি
আর লেঙচে লেঙচে হাঁটি

তখন সারা ঘরে মুষিকের উৎপাতও
বেজায় বেড়ে যায়

ধেড়ে আর নেংটি মিলে
আমার ঝোলাগুড়ে চোবানো হৃদপিণ্ডটাকে
কবেই তো কিমা বানিয়ে ছেড়েছে

অতঃপর আমি ইঁদুরের গর্তে নেমে
মত্ত হাতির খোঁজ করতে গিয়ে
যা যা অবলোকন করি   

তাতে হাতিডোবা থেকে ঘোড়াপোঁতা
সবখানেই দেখি প্যান প্যান করছে প্রেম

বয়ফ্রেন্ডে আর গার্লফ্রেন্ডে
চারপাশে যেন গাঁজি লেগেছে 

ফিসফ্রাইয়েতে ভেটকির বদলে প্যাঙাস
মস্কোকে এখন কেউ আর লেনিনগ্রাদ বলে না

আমি তো নাগরিক বটতলায়
দেহাতি ভঙ্গিতে বসে থাকি

ঢেলা-করা ছাতুমাখা খাই
সঙ্গে পেঁয়াজ পুদিনা কাঁচালঙ্কা

আবার প্রেমের ক্যাডারদের হাতে
কুমারি বিস্কুট দেখলেই

আমার হাঁটুতে হাঁটুতে
হাততালিরা লুকোচুরি খেলা শুরু করে
বুকের ব্যামোও খুব পোয়াতি হতে চায়

আমি তখন কী আর করি
স্যাঁৎ করে ঢুকে পড়ি
         মহাযোগিনীর গর্ভযন্ত্রণায়

Tuesday, February 21, 2017

ঈশ্বরীয় প্রেম



ঈশ্বরীয় প্রেম

কুকুর-ঈশ্বরের লিঙ্গ থেকে উৎসারিত
একটা পারপেন্ডিকুলার জ্যোৎস্না

কুকুর-ঈশ্বরীর যোনি ভেদ করে
নেমে এসেছে
পাঁদাড়ের আশ-শ্যাওড়ার ঝোপে

চলো সেখানে সেই মধুর রসে
আমরাও খানিক একসঙ্গে ভিজি

যদিও আমাদের হাই-ভোল্টেজ প্রেমে
ঈশ্বর-ঈশ্বরী উপলক্ষ মাত্র

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...