Total Pageviews

Thursday, May 31, 2018

বায়োলজি-ম্যাথামেটিক্স


হাসপাতালের লাগোয়া ফুটপাতে
শ্রীগুরু-ফার্মেসি ভাতের-হোটেল মড়ার-খাট  
ফুল-মালা-অগুরু
                লাগলে বলবেন স্যার

লাগলে বলবেন
যে জলে মরাল চলে
তারও ভুবনে মাগো  
নীল-হিপিদের ব্রতকথা

ফাউ-পরবের সাজানো বারান্দায়
      ঝাউবন-পালানো জ্যোৎস্না
           শ্রীতমা শ্রীতমা
                 তুমিই তবে শুদ্ধতমা   

আমি নেহাৎই
হাফপ্যান্ট-ফুলপ্যান্ট ডিজিট্যাল-এঁটোকাঁটা


ও বড়োবাবু ভরা-গাঙ কেউ ঢিল মেরেছে
তাই গাছে গাছে এত গুজব ফলে আছে -   

                      তা থাক না
মৃৎশিল্পের গা কতখানি ঘেমে উঠছে
তাই দেখব বলে
ভুলজ্বরে খুন হয়েও  
ফিরে তো এলাম

তুমি শেখাতে চাইছ জড়িয়ে ধরার বায়োলজি
                 আমি শিখছি
                       অরুচি-রঙের ম্যাথামেটিক্স

Wednesday, May 30, 2018

পায়ের ছাপ


পাগলামির লোকালে চেপে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশন
স্টেশন তো নয় যেন কোনো বৃষ্টিভেজা রোগা বিকেল আর
এক গুচ্ছ একা-থাকার গল্প

পড়ন্ত রোদে ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে
সে এক ধূসর নাগরিক
চেয়েছিল পাখি হতে
সেকথা নদীকে বলিনি

পুরোনো গাছের সামনে দাঁড়িয়ে
নম্র নচিকেতা যে ঝর্না হবার কথা ভেবেছি্ল
সেকথা বৃষ্টিকে বলা হয়নি

মহুয়াতলার আর্ট-গ্যালারি যখন ঝাপান গানে ডুবুডুবু
উদ্যাত তরবারির নীচে
পেয়িংগেস্টের নোকাডুবিটিকে রাখলাম

দত্তপাড়ার কানাকানি থেকে মহন্তপাড়ার ঘোষগিন্নি জেনে গেলেন
আম্রকুঞ্জের কোঠাবাড়িতে একজন লাভগুরু থাকেন

লিচুবাগানের নরমমাটিতে নাকি তারই পায়ের ছাপ দেখা গেছে

Friday, May 25, 2018

মানুষের গন্ধ


শরীরের ফর্দ ফর্দের শরীর এবং তাদের  
  কত সব ম্লেচ্ছ দেনা-পাওনা
শরীরের নদী নদীর শরীর
 আর সেখানে কেমন যেন সব
 সাঁতার সাঁতার খেলা

চৈত্রমেঘে ঢেকে গেছে বিকেলের রং
             তার দিকে
আদরে আদরে কিছু জন্ম-মৃত্যু খুলে দিই

এখানে জন্ম নাহয় ঠিক আছে
কিন্তু মৃত্যু শব্দটা যদি বড়ো ভারী মনে হয়
তাহলে
তার গায়ে নাহয় কতক বৃষ্টি মাখিয়ে নিই

ওই কে আবার হেঁকে বলছে
আর ঘুঘুডাক
         হ্যাঁ তাদেরও সঙ্গে নিতে পারি

ঘুঘুডাক নিতে পারি
সমুদ্রযাত্রা নিতে পারি

অনেক কিছুই তো কাছে পেতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই কই

বাতাসে মানুষের গন্ধ পেয়ে
        প্রকৃতির পাঠশালায়
    -গল্প সে-গল্পের পর
কোথা থেকে যেন হঠাৎ ঢুকে পড়ে
                 দেদার
দাঙ্গা রক্ত খুন

সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়

Thursday, May 24, 2018

একটি পুঁজিবাদী কবিতা



 
বেতালা ও বেহায়া বেঁচে থাকায় কিছুদিন চাঁচাছোলা হয়ে থাকি
                                         কিছুদিন মালকোঁচা-এঁটে
                                                               কচি বেলপাতা চিবোই  
মাঝে মাঝে মিনরাশি থেকে কতক ঘোলাজল নেমে এসে খোঁজখবর নিয়ে যায়
নকশি-কাটা মাদুরে বসে তারা অনেক গল্পগাছা করে যাবার আগে বলে 
ওই যে ঘরোয়া শরীর মিশে থাকা ওই ভাড়াটে ভেংচিকাটাগুলোকে দেখছ
সেগুলো আসলে কাকের বাসায় আটকে পড়া
    এক বৃদ্ধ নাবিকের যৌনতার কাহিনি
     সোনামাসির কোলে শুয়ে
তার কাঁঠাল-ভাঙার কথাও শুনি খুব মন দিয়ে
এবং যত্ন করে নিজের আয়ুরেখা তছনছ করি  
তারপর বাসমতি চালের জন্মকথাটিকে একটা পুঁজিবাদী হাসি দিয়ে বরণ  করে
জন্মান্ধ মহাকালের ভিতর অমরত্বের ভল্যুম আরো কিছুটা বাড়িয়ে দিই

 
বনহরিণীর উনত্রিশ পাতায় লুকিয়ে রাখি অন্যমনস্কতা
জলাজমির উপোসি শরীরে এ এক চিরনির্মাণের খেলা
কতকটা সম্পর্ক নিষিদ্ধ নাসপাতির দিকে গড়িয়ে যায়
কিছুটা সম্পর্ক লোমকূপের গভীরে অবুঝ পায়চারি করে
ব্লটিং-পেপারের সাজঘরে ও-কার এলোমেলো নাচ  বুঝি না
বিবাহযোগ্য গাধাদের সারস্বত চিৎকার শিরোধার্য করে
ছায়ামানুষের কষ্টরেখায় আঁকা যে সচ্ছল ভাটিখানা
                                                          আমি হয়ে উঠি
                                                      তারই এক অনবদ্য নাগরিক  
দূরবর্তী স্রোতের গন্ধে যে বালিকা ঋতুমতী হয়
ইচ্ছে করে তার ম্যাগনেটিক জাদুঘরে
কিছুদিন স্ক্রিনসেভার হয়ে থাকি
যদিও দিনের আলোয় সেভেন ও-ক্লক ব্লেডের ধার কমে আসছে
নির্জন গেস্টহাউসের আমপাতায় একটা মৃত্যু-সংবাদও
     ক্রমশ সাবালক হতে থাকে  







Thursday, May 17, 2018

খবর


যে খবর শুনব ভাবিনি কোনোদিন
সেই সব খবরেই এখন কান ঝালাপালা হচ্ছে

দুঃখ পাচ্ছি কষ্ট হচ্ছে খুব চোখ ফেটে জল আসছে
তবু শুনতে হচ্ছে
                 সেই সমস্ত রাশি রাশি দুঃসংবাদ

অগ্নিকোণের ভাঁজে ভাঁজে অন্ধ-বাউলের গান
                 আজ কোথায় গেল
           কোথায় উধাও হল  
রাংতা-মোড়া মিথুন-রাশির অন্তর্গত অসুখেরা
            তা আমি জানি না জানি না  

রেডিও-অ্যাকটভিটির নষ্ট প্রহরে
             শুধু বাইক-বাহিনীর গর্জন
তারই শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে
গ্রাম-বাংলার ডাহুক-ডাকা পুকুরের জল   

যেসব খবর না শুনলেই ভালো হত
সে খবরও এখন শুনতে হচ্ছে
না শুনে উপায়ই বা কী
সকালের খবরের কাগজ
ঘন্টায় ঘন্টায় ব্রেকিং-নিউজে
গমগম করছে বাতাসের ফোল্ডার

আমার ভালোলাগাগুলো কি তবে আজ   
আমার থেকে আলাদা হয়ে গেল
চারপাশে কত শুকনো মুখ থমথম করছে
                 ভয়ে আতঙ্কে   
শস্য বলতে শুধু গুলি-বন্দুক-বোমার চাষ
আর্ত মানুষের কান্না যেন থামতে চাইছে না

না না এসব আমি চাই না
আমাকে কি কেউ ফিরিয়ে দেবে
            শূন্য ভিক্ষাপাত্রের আশীর্বাদ

সেই আমার বিপুল বৈভব
সেই আমার কানাবেগুনের ঐশ্বর্য  

Wednesday, May 16, 2018

কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা


অন্ধকারের জঠর থেকে ফিরে
সস্তা পরচুলার শুভেচ্ছা নিয়ে 
এই তো জেগে উঠলাম আবার

চোখ মেলে দেখছি
দিগ্বিদিকে ছড়িয়ে পড়া আলো

দেখছি সেই দূর-আকাশের আত্মীয়তা
আবার ঝলসে উঠছে

এই দেহ এই মন ওই চাঁদিফাটানো রোদ
তাদের শেকড়ের যত অপরিচয়
সবই তাহলে আবার আমার নিজের হল

আমার প্রতিবিম্বটিও আমার নিজের হল

কিন্তু স্বচ্ছ সরোবরের এত ঘনিষ্ঠতা পেয়েও
নিরীহ রক্তরসের হাত-পা যে ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছে

কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা হে ভয়ংকর
আজ আবার কতটা ধ্বংসযজ্ঞ  
কতটা সন্ত্রাস দেখতে হবে কে জানে

Tuesday, May 15, 2018

ছিবড়ে - মানুষ


সারাদিন মুঠোর মধ্যে মোবাইল
এটা ছুঁয়ে ওটা ছুঁয়ে  
ছবি গান ভিডিও চ্যাট সেলফি
রাস্তায় বাসে ট্রামে মেট্রোয় ঘরে বারান্দায়

তুমি আর তোমার মোবাইল
যেন জগতের সব আনন্দ তোমার মুষ্ঠিগত
তুমি তাকে মনেপ্রাণে শুষে নিতে চাইছ

তারপর দিনের শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে বিছানায়
তখন তুমি এক ছিবড়ে মানুষ

অথচ তুমি চেয়েও দেখলে না
তোমার চারপাশে আকাশ ছিল গাছপালা ছিল
ফুল পাখি নদী ছিল
কত মানুষের হৃদস্পন্দন ছিল

তাদের মাঝে কীসের আগুনে
          এবং কী ভাবে
              পুড়ে গেলে একা একা
   তুমি বুঝতেও পারলে না  

সাঁতার-কাটা

ভুখা-মিছিলে হাঁটা তারাদের হাত ধরে ঘুরপাক খায়
আমার থোর-বড়ি-খাড়া আর খাড়া-বড়ি-থোরের
                        পেন্ডুলাম ও ঘুম
ঘুঁটের আগুনে ভেজা উপাস্য গ্রীবার সামনে দাঁড়ানো
এক একজন মানুষকে দেখে মনে হয়
যেন একতারার তারে বাঁধা
                 এক একটি অমলিন ভাস্কর্য
ফাগুনের সজনেফুল একদিন বলেছিল
বাটিপোস্তর মহোৎসবে অংশ নিতে নিতে  
আমি নাকি বারবেলায় জিজ্ঞাসাহীন হরতন হয়ে যাব
আমি তো জানি সুবাসিত সাবানের হলুদ সঞ্চয়
         সবুজ খিদের থেকে আমাকে পেড়ে এনেছে
এই বিকেলবেলার চায়ের নেমন্তন্নে
আকাশের নীচে পাতা যে নড়বড়ে তক্তপোষ
        তার উপর বসে বসে দেখো
হরিণী-আগুনে আজ
            আমিও কেমন সাঁতার-কাটা শিখেছি 

Wednesday, May 9, 2018

নাতির গল্প


মেয়ে আর নাতি এসেছে বেঙ্গালুরু থেকে
     হাওয়াই জাহাজে চেপে
নাতি আমার তিন পেরিয়ে চার
শুরু হল নাতির গল্প

প্লেনের জানলা দিয়ে বিস্তর মেঘ উড়ে যায়
            সাদা সাদা মেঘ সব
তাদের দেখে নাতি তার মাকে বলে
আমার রং-পেনসিলের বাক্সটা দাও
ক্লাউডগুলোকে কালার করে দিই

মামাবাড়িতে অনেক লোক
কিন্তু সবাই এক জায়গায় থাকে না
নাতি কিছুটা অবাক হয়ে
ফিসফিস করে তার মাকে বলে
সবারি তাহলে আলাদা ঘর আছে

সন্ধেবেলায় আমি আর নাতি বেড়াতে বেরিয়েছি
চারপাশ ভেসে যাচ্ছে স্ট্রিটল্যাম্পের আলোয়
নাতি বলে ওঠে
দাদু দাদু আমি অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি

নাতির গল্প চলছে
তার কাছে আমি শিখে নিচ্ছি
নতুন চোখে দেখা
তার কাছেই শিখছি
নতুন করে ভাবা
আমার নাতি
সবে তিন পেরিয়ে চার  

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...