Total Pageviews

Wednesday, May 31, 2017

আমার বিনির্বাণ-পর্ব 2


মাজরাতে দক্ষিণের জানলা গলে
আমার বিছানায় এসে পড়ে 

স্ট্রিট-ল্যাম্পের এক টুকরো আলো

আমার বিষদাঁতের নিশ্বাস
তাঁর গায়েও এঁকে দেয়
দেদার টিপছাপ 


তুমি তখন বহুদূরে বয়ে যাওয়া
এক স্রোতোস্বিনী শুধু

Sunday, May 28, 2017

আমার বিনির্বাণ-পর্ব - 1


তোমার জন্যে সাদা কাগজের বুকে
অকপটে যে জলটি আঁকলাম
তাতে আমার নিজস্ব কোনো সাঁতার ছিল না 

অথচ আমার স্নানের শব্দরা খুব করে ছুঁতে চেয়েছিল
তোমার থুতনির তিল

আর রোদের শূন্যতায় ঘাম ফলিয়ে
সমানে জারি ছিল আমার ধান্দাবাজি

Thursday, May 18, 2017

এইসব ছাইপাঁশ

এইসব ছাইপাঁশ 

ঢিল-ঢঙ্গরের পথে হাঁটতে হাঁটতে 
শালা দুপাশে ফোস্কা পড়ে গেল 

সেই ঘা চুলকে চুলকে এখন ভাবি
সারা জীবন নিজের চারপাশে এত যে
দেয়াল তুললাম আবার ভেঙ্গে ফেললাম
                        তো কী পেলাম

সেই একটা ভাটের আকাশ 
চোখের সবকিছু খুবলে খেল

সঙ্গে সেই একই ফুল আর পাখি
একই গাছপালার ঘ্যানঘ্যানানি

আর সন্ধে হলেই মন্দিরের শাঁখ ঘন্টা
আঁতে যেন লাউঘন্ট রাঁধতে বসে

আমিও খোলামকুচিতে লিখে রাখি 
                        আমার একটা মন ছিল
                                      মনের একটা শরীর ছিল

কে জানে সেইসব ছাইপাঁশ
কোনো ব্যাটা পড়ে  কিনা

Saturday, May 13, 2017

বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী

সকাল হতেই আপেলের গর্ভে
যে নতুন সূর্য জন্ম নিল

তাকে ডিকোড করে পাওয়া গেল
এক ভর-যৌবনা নারীস্তনের আভাস

বুঝলাম না এটা কি বোশেখের ধানখেতে
দানাবাঁধা ঝড়-বিদ্যুতের বিজয়-বার্তা

তা কী করে হবে

আমি তো এখন আর রোগা-নদীতে নেমে
পোড়ারুটিতে নিঝুম খুঁজি না

তরল-আলতা পরা হরিণেরাও
আমার নিরাকারের চারপাশে
হলুদ রঙের ১৪৪ ধারা জারি করেছে

এবং কোনো গীতিনাট্যই আর আমার
ভিক্ষাপাত্রকে স্পনসর করতে রাজি হচ্ছে না

কেন জানি না আপেল-আঙুরের চেয়ে
খাজাকাঁঠাল আর মজাপুকুরকে এখন আমার 
            অনেক বেশি বুদ্ধিজীবী বলে মনে হয় 

Wednesday, May 10, 2017

বুদ্ধ-পূর্ণিমার চাঁদ

বুদ্ধ-পূর্ণিমার চাঁদ

রাতের আকাশে আজ
বুদ্ধ-পুর্ণিমার চাঁদ

চারপাশে এত কোলাহল এত কৃত্রিমতা
তার থেকে কিছুক্ষন চোখ সরিয়ে

হে নাগরিক ঘাড় একটু উঁচু করে
তুমি কি তা দেখো

রোজকার হিসেব-নিকেশে খানিক
ইতি টেনে তুমি কি ভাবো

আমদের লুম্বিনি-উদ্যান ছিল
নৈরঞ্জনা নদী ছিল
জেতবন-বিহার আর
শ্রাবস্তী-নগরী ছিল একদিন

আরো ঝলমলে আলোর পিছনে ছুটে ছুটে
হে ক্লান্ত নাগরিক তুমি কি ভুলে গেছ

আমাদের আছে এক বুদ্ধ-পূর্ণিমার চাঁদ
সমস্ত আলোকে ছাপিয়ে যার উজ্জ্বলতা
        আমাদের বোধের ভিতরে বয়ে গেছে
      শান্ত বহুদূর

হেলে-পড়া কবিতা



হেলে-পড়া কবিতা

ফ্রেমবন্দি ছবিতে
বুদ্ধ পায়েস খাচ্ছে
সুজাতার হাতে

ফ্রেমটা একটু হেলে আছে
হেলে পড়েছে সুজাতা
এবং তথাগত

পায়েসের বাটিটিও কাৎ

সাদা দেয়ালের হেলদোল নেই

টিউব-লাইটের ছায়ায় দুটো টিকটিকি
শিকারের প্রতীক্ষায়

বালিশে ঈষৎ হেলান দিয়ে
আমি চায়ের কাপটি শেষ করছি

সন্ধে থেকে দু-নম্বর

গলার কাছটা কুটকুট করছে
কিছু ঘামাচি
বাবাঃ যা গরম পড়েছে

এবার পাউডার থুপতে হবে

Friday, May 5, 2017

পাগলের পৃথিবী

পাগলের পৃথিবী 

ন-হন্যতে হন্যমান কচুঘন্টের ধারাবিবরণীতে 
চরকাকাটার দিন কবেই শেষ 

চকলেট-বোমের বাক-স্বাধীনতাও প্রায় যায় যায় 

তোমার উথলে ওঠা চুল বাতলে দিচ্ছে 
আমার হিপ-পকেটে এখনো রয়ে গেছে 
ন্যাকা-বোকা প্রেমের কিছু খুচরো কানপাশা 

সাবেক ধূপদানি থেকে উঠে আসা
নদী-ভাবনা যাই বলুক

ঝুমচাষে ডুবুডুবু নাগরিকদের পক্ষে 
বর্ষারাতের আমবাগানে

জোনাকির তাঁবেদারি করাটা 
এমন কিছু গর্হিত কর্ম নয় 

বনসাই-মার্কা দিনযাপনে 
বিতর্ক-সভা বসেছে পদ্মপাতায়

আমাদের প্রেম-সংক্রান্ত চুলকুনিতে
মহাশূন্যকে একপায়ে দাঁড় করিয়ে 
চরকি নাচন নাচাচ্ছে বারান্দা 

ছোটো-বড়ো-মেজো-সেজো 
এবং কেজো-লোকেদের সঙ্গে

বহুদিনই তো কাটালাম 

কেউই তো আমাকে সানগ্লাস-পরা 
তালপুকুরের ম্যাজিস্ট্রেট বানাতে পারল না 

এবার তাই বৈধ ও অবৈধ সব পাগলদের জন্যে 
একটা আলাদা পৃথিবী রচনা করছি

Thursday, May 4, 2017

মেয়েলি রুমাল

মেয়েলি রুমাল

পার্কের বেঞ্চে ফেলে যাওয়া
একটি মেয়েলি রুমাল

তার মাধ্যাকর্ষণ-শক্তি কি
এতটাই প্রবল

আগডুম-বাগডুম চিঁড়ে-ভেজানোর গল্পে
ভিরু-রচিত শরীরও দেখি
টাল খায় খুব

ডোকরা-শিল্পীদের মৌরুসি-পাট্টায়
দেশিধানের ফলন বেশ ভালো হলেও

পাজামার দড়িতে
কী ভীষণ গিঁট পড়ে যায়

এই সব ফুলঝুরি যখন দৈববাণী হয়ে
কানা-মগজের স্তন্যপান করে

ভিখিরি-চোখের ফাউল ঠেলে ঠেলে
চন্দনকাঠের চিতাশয্যার দিকে

লাল-লিপিস্টিক ও হলুদ-বসন্তকাল
এক কাছে হয়

অতঃপর আমাকেও দেখে নিতে হয়
সেই মুহূর্তে
ফায়ারব্রিগেডও ঠিক কতখানি রেডি

দেখতে হয়

কতটা আলগোছে মানুষ

বেঁকে গেছে সমুদ্রের দিকে

Wednesday, May 3, 2017

হা-পুরুষ

হা-পুরুষ

চাঁপাফুলের রং-রূপ-গন্ধ নিয়ে
যখন আর নতুন করে
কিছু বলার নেই

তখন বিকেলের ছাদে দাঁড়িয়ে
নিজেকেই ভাঙতে থাকি প্রার্থনাহীন

অসীমের থেকে উঠে আসে হাওয়ায়
এক এক করে উড়িয়ে দিই
আত্মজীবনীর ছেঁড়াপাতা

নোট-বাতিলের দিনে শীতে-মোড়া
উৎসবের গায়ে টোকা দিলে
ঝরে পড়ে কলাইশাকের বেঠিকানা

ডাগোরচোখ পরাগরেনু কেশবিন্যাস
মনে পড়ে যায়

ছাদের তামাদি হয়ে থাকা অ্যান্টেনায়
ডানা ঝাপটায় ফ্ল্যাসব্যাক

মনে হয় চলে যাওয়া দিনটিতেও
রয়ে গেল কিছু যেন নদীর মতো

আমিও তো রয়ে গেছি
সোঁদামাটির পাখসাটে পালটি খেতে খেতে

নমাসে ছমাসে
দেয়ালঘড়ির ব্যাটারি বদল করে  


হা-পুরুষরা যেভাবে বেঁচে থাকে

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...