Total Pageviews

Wednesday, January 31, 2018

ইনহেলার-জন্মেও কামসূত্র

তোমার সঙ্গে আমার
প্রতিদিনের যুদ্ধ-ভালোবাসা-প্রেম

মিহি করে আঁকা চাকর-বাকর
কেন্দ্রীয়-সরকার রাজ্য-সকার
         আমার ইনহেলার-জন্ম

তন্ত্র মন্ত্র কুরুক্ষেত্র
    মত্ত পারমিতার ভিতর
আহত-সিম্ফনি
শ্রাবণ মাসের চিঠি

কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর
আরো চতুর হয়ে ফিরে আসছ

ফসলের ফলস পাড়ে 
হোঁচট খেতে খেতে স্বাগত

আলোর তুমি তোমার আলো
ঝড়ের তুমি তোমার ঝড়

কীভাবে কেন কোথায়
কোন দেশ কোন নদী
কোন কোন জিজ্ঞাসাসকল

দিনের ভিতর রাতের ভিতর
হাঁটতে হাঁটতে
জীবনযাপন
জীবনবপন

এই তো সেদিনের কথা

তুমি তখন ঝাপানগানের কথা
মনে রাখতে রাখতে
গ্রীষ্মকালের ভিতর
পরকীয়া প্রশান্তির ভিতর
ভৃগু জল

প্রস্তুত অথবা অপ্রস্তুত
বিনিময় মূল্যে নারাজ হয়েও
বার বার

এত গৃহঋণে কাতর কামসূত্রে
আবার দুর্দান্ত বেজে ওঠার সাহস 

Tuesday, January 30, 2018

অঙ্কখাতা

নতুন নায়িকার সন্ধানে দু-পা এগোতেই
উড়ে এল একটা গোলাপি খাম
তার ভিতর মাস্তুন-ওড়ানো দুপুর

এইভাবে চৈত্রমাসের প্রতিপদে কিছু বৃষ্টি এল
গঙ্গাবক্ষে ভেসে যাওয়া সারি সারি নৌকায়
একটাতে ওথেলো -ডেসডিমোনা
        একটাতে দুষ্মন্ত-শকুন্তলা
            তো আরেকটাতে
ডোমনি ও ব্রাহ্মণ-বালক

অতসিফুলের সশস্ত্র-হানায় লণ্ডভণ্ড হল বসন্তকাল
প্যারাডিম ফাটিয়ে পটলভাজারা উঁকি না দিলেও
বাস্তিল-দুর্গ কিছুটা কেঁপে উঠল বৈকি  

মাথায় বাসতেল মেখে শালবনের ঝরাপাতারা বলল
            বিমানসেবিকাদের ফুটনোট যা বলে বলুক
এবার তোমার অঙ্কখাতায় অনায়াসে লিখে নিতে পারো
ভালোবাসা/সার্ফএক্সেল
                            =
কানাবেগুন/ঝালচানাচুর

ও মুসাফির

হলুদ-নদীর ট্র্যাফিক-জ্যাম থেকে বলছি
কোনো পাতাবাহারের মনোরঞ্জনের জন্যেই হয়ত
              এত খনিজ আলিফ

প্রেসার-কুকারে সেদ্ধ হচ্ছে আমার বিদেহী আত্মা
            ও মুসাফির একটু দাঁড়াও আর
আমার জন্যে একটা আয়না আনো
একবার দেখে নিই
আমার যে লাফিয়ে ওঠা বুকব্যথা
তার হাসির সঙ্গে
ফ্যারাওয়ের ভেদবমির রিলেশনটি
এখন ঠিক কতখানি আহ্লাদের জন্ম দিচ্ছে

ও মুসাফির একটু দাঁড়াও একবার দেখে যাই
গোধূলির পাখি-সাঁতারে পুরোন কাঁথাস্টিচে জারি
আমার মনকেমনরা
এখন কেমন আছে

দাঁড়াও ঘৌড়দৌড় লতিয়ে ওঠার আগেই
শর্ট-প্যান্ট না-পরা ঈশ্বরকে
আরো কিছু নিমপাতা সাপ্লাই করি




Monday, January 29, 2018

ডাঁসা-লীলা

হাঁচি কাশি মাথাব্যথা আর
এক ঠোঙা ভালোবাসা নিয়ে
ক্রমাগত হেঁটে যাচ্ছি
এক সাদা পাতা থেকে আরেক সাদা পাতায় 
                 আমি দীন আমি উদাসীন

কিছুটা এগিয়ে কিছুটা পিছিয়ে
চাঁপারানির এলোচুলের ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে
কলার মান্দাসে ভাসিয়ে দিয়েছি
                 কিছু যানজট কিছু কান-কটকট
                     এবং কিছু বনহলুদ
ভরানদীর দিকে ভরানদীর দ্বারা ভরানদীর জন্যে

সূর্যাস্তের ঝিরিঝিরি অঙ্গরাগ বেয়ে
নেমে আসা
লালপরী নীলপরীদের আরো কিছু রূপকথা
             গড়িয়ে দিয়েছি
বদ্বীপের দিকে বদ্বীপের দ্বারা বদ্বীপের জন্যে 

আমার এই ফলস-ভোটারের দুহাত দিয়ে
বাতাসে বিলিয়ে দিয়েছি
আরো কিছু আলতু-ফালতু
আরো কিছু কুচুকুচু
ছোটো-শালীর দিকে ছোটো-শালীর দ্বারা
ছোটো-শালীর জন্যে

ছাপোষা-ঈশ্বরে এক আমার প্যাপিরাস
ঘোড়ানাচ সম্পর্কে কিছুই জানি না

অখ্যাত হাতে জড়িয়ে ধরা
             বাসি-রুটির জীবনালেখ্যে
হলুদ রঙের দুঃখগুলো
এবার তবে নীল-রঙেই আঁকি 

শুনেছি নীলরঙই নাকি
বিশুদ্ধ দেবলীনার
ডাঁসা-লীলা জানে

হাওয়ার ভিতর হাওয়া হয়ে মিশে থাকা
আমি সেই নীল রঙের ভাঁজ খুলি
তাকে মেলে ধরি   
তারপর
তার ডাকাবুকো আঁকিবুঁকিগুলো
বাড়িয়ে দিই
সমুদ্রের দিকে সমুদ্রের দ্বারা সমুদ্রের জন্যে


Saturday, January 27, 2018

গল্প-সবুজ মৃতদেহগুলি


আজীবন
কোনো দূরের বাগানে
শুধু কিছু হত্যাকাণ্ডের চাষ হয়
এবং
পশু-চিকিৎসালয়ের বস্তুবাদ থেকে
এক অলীক সমুদ্র নেমে এসে
ডটকমে ডটকমে
ফিরিয়ে দিয়ে যায়
আমার গল্প-সবুজ
মৃতদেহগুলি

পাকা-ফসলের মাঠ অভুক্ত নদীজল
বাথটবে পোষা উলুধ্বনি
সাদাপাতার রত্ন-ভাণ্ডারে এসব যা ঘটছে ঘটতে দাও
            
নবমী তিথির করিডোরে সামরিক কুচকাওয়াজ দেখে
আমি বুঝে গেছি
বসন্তকালীন ওভারবাউন্ডারিতে
কারো হৃদয় নিহত হোলে
    তার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে
উড়ে আসতেই পারে
কিছু ঝরাপাতা

তাই বলে কি আমি আমার
সব মিথ্যা তাঁতবোনা ভুলে যাব

ওই যে লেডিজ হোস্টেলের মাঠে
অসবর্ণ বিকেলের রোদ

ওখানে ভুল বানানের অতিথি হয়ে
নিজের মনেই খেলা করুক
      ঘাসফড়িংয়েরা

কী গভীর ও গম্ভীর এই হযবরল

আমি নাহয় আবার ফিরে যাচ্ছি
আমার বৃষ্টি-ভেজা টি-শার্টের  

                     আদিগন্ত কৃষিকাজে 

Wednesday, January 17, 2018

কিছু নিষিদ্ধ বারান্দা-কথা

রহস্যময় কাঠগোলায় কারা অমোঘ ষড়যন্ত্র ঝুলিয়ে রেখেছে
আমার ধর্মনিরপেক্ষ আঙুলেরা
         কিছুতেই ছুঁতে পারছে না
             মৌবাসনার স্বপ্নমাখা
                          নিশিজল

আধভাঙা বিস্কুট হাতে
নিষিদ্ধ বারান্দায় দাঁড়ালে
একটা শিলপ তৈরি হয়

আমি লাট্টু খেলছি
আমিই সাবান মাখছি

জ্যামিতিবক্সের যাপন-পর্ব কামার্ত জিভ
                 আর সাদা ক্রোধ
মিলেমিশে যে অকালবর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়
             ভোঁতা-দুপুরের বাহারি মিউজিয়ামে
             আমি তার মোমমূর্তি বানিয়ে রাখছি

জোনাকির কানমলা খেয়ে
তোমার-আমার সম্পর্কটা এখন

             অনিশ্চিত আমসত্ত্বের থাবা চেটে যায়  

Sunday, January 14, 2018

হিজলপাতা থেকে কিছু অনুবাদ

১.
তালশাঁস সাঁতলানোর নাচ-ফোড়নে
কৃষ্ণপক্ষে নড়ে ওঠে জলগুচ্ছ
ডার্করুমের পিছনে হুবহু
এসেছি মানুষ সেজে চলে যাব
এইমাত্র যে পাতাটি খসে পড়ল
তার আড়ালে কিছুটা বয়সও
পুকুরের জলে কেউ ঢিল ছুড়েছে
ঢেউ ভেঙে যাচ্ছে জলজ কিছু মুহূর্ত
মিনার-বিজলি-ছবিঘরের জলবায়ুতে
আমি কি ঠিকঠাক
নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম
কী জানি ভূমিকম্পের হিপ-পকেট থেকে
এখন কিছু পুরোন বাদামভাজা বের করে
কুট কুট করে দাঁতে কাটছি আর ভাবছি
সিলিংফ্যানের সাঁতারের নীচে
নিজেকে আরেকবার গুছিয়ে নিতে হবে
নিজেকে আরেকবার গুলে নিতে হবে
ঘুড়ি-ওড়ানো শহরতলির অচেনায়
নিভু-নিভু উলুধ্বনি থেকে
পুরোন জং ছাড়াতে গিয়ে
আমার এই নাকানিচোবানি দেখে
বাড়ি ফিরে ছেঁড়া মন
কেন যে ফিক করে হেসে ওঠে

২.
গরম বাড়ছে তাহলে এবার
ফ্রিজ খুলে ঠাণ্ডাপানি খাই
আচ্ছা বলুন তো মহাশয়
ফ্রি-ল্যান্স শুভদৃষ্টির মন রাখতে
পাখিদের কক্ষপথে আর কতবার
এই-আমি নিজেকে কপি-পেস্ট করব 
বনতুলসির আত্মজন ভেবে নাহয় গতরে
ব্যঞ্জনবর্ণ পালন করব আরো কিছুকাল
নাহয় এত সব রোদ-বৃষ্টির
গণপিটুনিতে ভাঙতে ভাঙতে
টুটাফুটা বিবাহবার্ষিকী দিয়েই
নিজস্ব বেঁচে-থাকাটিকে সেলাই করে নেব
আর চুইংগামের মৌলবাদকে ডেকে বলব
আরবসাগরের ঢেউয়ের যদি টায়ার-পাংচার হয়
রাবার-স্ট্যামের পাকস্থলি থেকে দু-চামচ ঈশ্বর
                       নেমে এসে
এই ধর্মান্ধ গ্রীষ্মকালের স্টেপনি বদলে দেবে

৩.
কুয়াশা-মাখা কলেজ-ক্যাম্পাস থেকে
পিছলে পড়া ঝুমচাষে
এ-নগর আলোকিত হয়েছে বড়ো দীর্ঘকাল
আমার যে-ঘর এখন বিষের ছোবলে জরজর
সুধার কবলে পড়লে
এতদিনে সেও হয়ে যেত সৌধ
ওই কারো শবযাত্রার পিছু পিছু  
সাদাকালো দিনগুলি চলে যাচ্ছে ঢ্যাং ঢ্যাং
আমি কিন্তু কোথাও যাচ্ছি না বাপু
একা একা বসে আছি ছাদে
সামনের টেবিলে ফাঁকা কফিকাপ
পোড়া সিগারেট
একটা দীর্ঘশ্বাস ক্রমশই
হয়ে উঠছে গায়ে-গতরে


৪.
স্লেজ-গাড়ির মিছিল থেকে কবে যে দলছুট হলাম
তীর্থভ্রমণ থেকে খসে পড়া যে-সব ঠোঁট
তাদের শোবারঘরের ফোটোস্ট্যান্ডে
আমাকে বাঁধিয়ে রাখতে চেয়েছে
আমি তাদের মাটিতে লাঙল চালিয়েছি
উষ্ণতা বপন করেছি বার বার
বলেছি হে ভোলামন গয়না পরো
               আর আয়না দেখো
প্রেম ও বিরহের ধ্বনিতত্ত্বে
আমার ক্ষতচিহ্নগুলির লাফালাফি দেখে
বিশুদ্ধ কদমতলা থেকে কে যেন বলল
পরের পুকুরে ছিপ ফেললে
যে কোনো মিনারেল-ওয়াটারও
অবৈধ হয়ে যায়
চিঙড়িমাছেদের ডাকা শিল্প-ধর্মঘটে
কে বলল একথা  
পাখি রোদ শিউলিফুল ও শীতকাতরতা
আমি তো সবার কাছ থেকেই
ঝাল ঝাল আলুপোস্তর

        কিছু অনুবাদ ভিক্ষা করেছি  

উদবৃত্ত দীর্ঘশ্বাসগুলি

তুমুল দুরারোগ্যের দিকে যেতে যেতে
            সে এক বদনাম-বিলাসি ঢেউ
               ওই যে বলে গেল
ডাঁসা-পেয়ারার ডানায় লেপ্টে থাকা
                কত মধুর মধুর হত্যাকাণ্ড

                নিভৃত-প্রাণের ঘুলঘুলিতে
এক অসবর্ণ থেকে আর এক অসবর্নের দিকে
                          ঝুঁকে পড়ে
সে বলে গেল
      খেলনা রেলগাড়ির স্তব-স্তুতি ও মৌ-বন্দরে
পুরোন গ্রামাফোনের ঝুমঝুমি দিয়ে নির্মিত হাতবোমার
এক অদম্য কোজাগরী

আজ যদি কোনো লোকগানের ইসকুলে ভর্তি হয়ে
            দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার
বড়ো-পিসিমার হেঁসেলে ঢুকে পড়ে বাসি-পান্তা খেতে চায়
আজ যদি ভাঙা-কালভার্টে বসে পা-দোলানো অষ্টাদশী
         তার নির্জন বকুল-বনে
এক রাশ অশান্তি কামনা করে

তাহলে শকুন্তলার ছোঁয়া-পাওয়া কাঁঠালপাতারা কি
আমূল বদলে ফেলবে তাদের শস্যগোলার জল-পিপাসা

মেঘে-ঢাকা নৈশ-বিদ্যালয়ে
ফেলে এসেছি আমার কররেখা

কখন কোথায় কে কি করবে
তার আমি কী জানব

তবে আমার ছেঁড়া-শার্টের বুকপকেটে
বুনো-হাঁসেদের এক রাশ অর্কিড-গন্ধ লুকিয়ে রেখে 
প্রজাপতির ভাব ও অভাবের কাছে
বার বার নতজানু হই

আর শীত-সকালের কফিপাত্রের সঙ্গে করমর্দন করে বলি
হে মোমবাতি-লালিত মিথ্যা-রং
তুমি কি শুধু আমার রাহুগ্রস্ত চাঁদকে পুঁজি বানিয়ে
বোধিবৃক্ষের আলফা-বিটায় তুমুল বৃষ্টি নামাতে পারো

আমি তো মেসবাড়ির ম্যানেজারকে বোঝাতে চেয়েছি
কীভাবে প্রতিটি কাহিনির ভেতর
জড়িয়ে যায় মালগাড়ির ভোঁ

বোঝাতে চেয়েছি যখন রোদচশমার আলিঙ্গন
নীলশালুকের গর্ভে ঢুকে
      গভীর জলকন্যার সুরে নহবত বাজাতে থাকে
         আমি তখন ধানমাঠের গুপ্তকক্ষের কাছে
                  একটা পুনর্জন্ম ধার করি

এখন তবে তুমিও আর ফেরিঘাটের জন্মবৃতান্ত জানতে চেয়ে
চালডালের হিসেব-নিকেশের ভিতর
এই রকম চুপ করে বসে থেকো না

বরং মেহগনি রুমালে একবার মুখ মুছে নিয়ে বলো
সামনের হেমন্তে
জলপাত্রের চারপাশে ঝরনা আঁকতে চাওয়া চিত্রকর কি

খুব বুড়ো হয়ে যাবে 

Wednesday, January 10, 2018

তারিখ-বসানো দিন

অজস্র পাখিডাক থেকে শূন্য খুলে নিয়ে
যারা বানিয়েছিল সেদিনের হাজারদুয়ারি
আগামী সব রেলস্টশনের জন্যেও কি তারা পাঠিয়েছিল
তাদের পাললিক হাসিখুশি

আমার কিশোরবেলার মুঠোয়
আমিও তো কিছু বাজনা ধরছিলাম
যখন ঝমঝম বৃষ্টিতে কেঁপে উঠেছিল
তালপুকুরের ঘুম-ঘুম ভোরবেলাটি

এখন যখন বিস্তর জলরঙের দিকে
         হেলে পড়েছে
             শপিং-মলের কেনাকাটা

তখন আতাফুলের কথা মেনে নিয়ে
আমি ফিরে তাকিয়েছি
পদ্মরানীর সাজানো ঘর-সংসারের দিকে

দেখছি দরজার ওপাশে কিছু ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে

হাতে তারিখ-বসানো দিন  

Thursday, January 4, 2018

দারুশিল্পের অন্যমনস্কতা


কৃষ্ণকলিটুকুর পুব দিকে যে বিকেলবেলার আকাশ
আমি তার অবিকল ডাকনাম হয়ে যাই

কারা যেন কোথায় চৈত্রের কোনো লিচু-বাগানে
আমার স্বল্প-সঞ্চয়ের সমর্থনে
         কয়েক-টুকরো মেঘ ভাসিয়ে দিয়েছে

এত সুদূর ও অনিঃশেষ
             দারুশিল্পের এই অন্যমনস্কতা
এই মাটির দেয়ালে ঘেরা রোগা ঘর
                  এত উপদ্রুত ও শীতকাতুরে

অরক্ত সমুদ্র-স্রোতে ভাসতে ভাসতে
আমি তোমাকে
অন্যায়-প্রেমে ডাক দিচ্ছি

তোমার কি সময় হবে
   যদি হয় তবে এসো

তুমি এবং তোমার নৌকাডুবিটি

Tuesday, January 2, 2018

খেলনামাত্র


ছায়াচ্ছন্ন বাসভূমি
জীবনের আর্দ্রতায়
আবর্তিত  
মেঘস্রাব
ঘুম ভেঙে জেগে উঠছে সাবেকি মুখ

সকালটি রইল
আগের মতোই
আলোকিত

এবং নীরব

         শিরিশ গাছ
আর তার ডালে বসা পাখিটিতে
যেন বিলোল আঙ্গিকে
ক্রমশ সবুজ হচ্ছে
    এক সহজ ও সচ্ছল বনস্থলী

যদি ক্লাসরুমের চোখ দিয়ে দেখি
             তাহলে বলতে পারি
হলুদ-গাঁদার চারপাশে
ঘুর ঘুর করছে যে বনবাস-পর্ব

সেও তো এক খেলনা-মাত্র 

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...