Total Pageviews

Tuesday, May 31, 2016

ক্লোরোফিল


ক্লোরোফিল

আছে বাড়ির পিছনে দু-একটি তালগাছ
আছে বাড়ির সামনে লাল রঙের পথ

দারুণ আগ্রহে কারো
গার্লফ্রেন্ডের পাণ্ডুলিপিতে
কথা বলে ঝলমল খইবেলা

ডুবসাঁতারের পিঠে চেপে
আমিও খানিক
চলো যাই চলে যাই

যেখানে জ্যোৎস্না দিয়ে কেউ
নিহত ডানার গার্হস্থ্যে
লিখে রাখছে ক্লোরোফিল     



পানকৌড়িদের উপকথা



পানকৌড়িদের উপকথা

মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে
বসন্তদিনের ব্যঞ্জনবর্ণগুলি

মাইরি মাইরি আলুর দম
এই নড়নড়ে দাঁত ছুঁয়ে বলছি    

এমন ঘনঘোর অবেলায়
দক্ষিণের বারান্দায় দাঁড়িয়ে

পিঠ ভর্তি চুল খুলে
তুমি আর ঘ্যাচাং-ফু বলো না

তোমার বাতিল প্রচ্ছায়ার যে উজ্জ্বলতা
তারই বশীভূত আমি

সন্ধ্যারতি মাখতে থাকা তাঁতঘরে যে আজো 
আমার না-ভীষণ কিছু ইচ্ছেও রয়ে গেছে

তাদের কৃপায় দেবী-মূর্তির ঘামতেলে ভেলা ভাসিয়ে
আমি যেন এক নৈঋত ঘাসফড়িং জন্মে চলে যাই  


সেখানেও কি আর অসবর্ণ বিয়ে থেমে থাকে
অগত্যা আমিও তখন
লিপসটিক-বিধৌত টেনিসবলের চারপাশে

উগলে দিতে থাকি বাদশাহী পানকৌড়িদের উপকথা  

Friday, May 20, 2016

মেঘেদের ঘরবাড়ি



মেঘেদের ঘরবাড়ি 

যে হাসি আমাকে ছিনতাই করেছিল
তার ইচ্ছে ছিল আমার নামে
একটি ঝরনা পুষবে

একথা আমি জেনেছিলাম
মাঝরাতের জলপিপাসার কাছে

আমি তৃষ্ণার কাছে যাবার জন্য
স্টেশন থেকে অটো নিয়েছিলাম

পথে যেতে যেতে দেখলাম
নীলকণ্ঠ পাখির দলিলে বাসা
বেঁধেছে কিছু ছুটি-ছুটির হাতছানি

যদিও আমার কাছে তো হাতছানির মানে
চিলেকোঠার ঘরে আবিরে রাঙা বর্ষা-বাদল   

সেই চিলেকোঠার ডার্করুমেই কে যেন আজ 
ফেলে রেখে গেছে এত ভক্তিগীতি 

ভক্তিগীতির পাতায় তবে বজ্র-বিদ্যুতের মঙ্গল
কামনা করে রাখি পাঁচসিকের মানসিক

ও মানসিক আরতির ঘণ্টা বাজলে
তোরও কি দুটি ডাগোর চোখ মনে পড়ে

মনে পড়ে  মনে পড়ে মনে পড়ে 
কাজল-কালো চোখে মেঘেদের ঘরবাড়ি 

Thursday, May 12, 2016

মানুষ

মানুষ

যাকে বলে শালগম তাকেই বলে ওলকপি
কেউ উত্তর দিকে হাঁটছে কেউ পশ্চিমে
গরম চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাই আর দেখি
চারপাশে জন্ম নিচ্ছে মানুষ মানুষ মানুষ

সরস্বতীপুজোর প্যাণ্ডেলে মাইক বাজছে
বাতাস ভরছে আরো আরো ডাকনামে
মানুষেরা বড়ো হচ্ছে মানুষেরা দড়ো হচ্ছে

কেউ প্রেম করে বিয়ে করছে
কেউ বিয়ে করে প্রেম করছে

কেউ গান গেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে
কেউ চাকরি করতে বিদেশ ছুটছে

পুরোনোরা ঠেক ছেড়ে চলে গেলে
আড্ডা জমাতে আসছে নতুন মুখ

আর আমি একা একাই কংক্রিট-সমুদ্রে
 ভাসিয়ে দিচ্ছি কাগজের সপ্ত-ডিঙা নাও

যদিও এখনও রিফিলের অসুখ সরিয়ে
আমাকে তুমুল হতে বলে আফতার-শেভ

পুরোন অভ্যেসে একা একা ছাদে গিয়ে দাঁড়ালে
এখনো খুঁজি সেই সন্ধ্যাতারা

 হায়রে ভাই ভাড়াবাড়িতে থেকে
আর ভাড়াগাড়িতে চেপেই
কাটিয়ে দিলাম সমস্ত জীবন

বাস্তুভিটে তুলসিমঞ্চ ঢেঁকিশাল
সবই আজ সুদূর অতীত

তা হলে ওই কথাই রইল
আজ রাতে কিন্তু
আমি গিন্নির রান্না ভাতই খাবো

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...