Total Pageviews

Friday, July 28, 2017

অনলাইন-প্রেম

আমাদের এত সেপটিক-ট্যঙ্ক লাগানো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে 
কোনো বেআইনি নারী কি 
প্রচ্ছন্ন রেখেছে তার খেয়ালি উর্বরতা 
এই ধরণের সংবাদে কারো আগ্রহ কম পড়তে পারে

তবে বন্ধুরা শুনে খুশি হবেন আমলকী ও হরীতকীর সঙ্গে 
অনাদিকালের হৃদয় উৎস থেকে ভেসে আসা প্রেমও
এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে

সেখানে অংশ নিতে গেলে দরকার 
একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেট-কানেকশন ইত্যাদি ইত্যাদি 

তবে নারকেলগাছের মাথায় চাঁদ উঠলে 
কেউ ইংলিশ কি-প্যাড ব্যবহার করবেন না বাংলা
সেটা রাজকন্যাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেওয়াই ভালো

Wednesday, July 26, 2017

পুনরুত্থান

আদ্যিকালের ধুলো ও খড়কুটোয় সুসজ্জিত
অহল্যাময় এইসব পার্থিব

সকালে টুথপেস্টের গন্ধে
আত্মপরিচয় খানিক বদলে যায়

তারপর সারাদিন
ঘোলাজল ও ট্রাফিক সিগন্যাল পেরোতে পেরোতে
বারুদের সপক্ষে কিছু সই সংগ্রহ করি

কিছু সই লুকিয়ে পড়ে
বাঁধাকপির পাতার আড়ালে

এই সময়ে পকেটের রুমাল
খুব ফ্রি-সার্ভিস দেয়

ট্রাপিজের খেলায় এক রাতকানা ঈশ্বর এঁকে
তৈরি হতে থাকি পুনরুত্থানের জন্যে 

Tuesday, July 25, 2017

তিলচাষ

দেখতে দেখতে মৌমিতার চারপাশটা কেমন যেন                      বোরোলিন হয়ে ওঠে
হালকা কুয়াশার ভিতর হাসি-কান্নার মিশেলে
গড়িয়ে গেছে যে আটচালা
তার বেঞ্চিতে বসে তালুতে মুখ ঘষি
আর হাঁক পেড়ে বলি
ওরে পঞ্চা
আমার আর ওই অস্পষ্ট কৃষ্ণচূড়ার জন্যে
দু-কাপ লিকার চা বানা বাপ
আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে
আমিও একদিন হ্যাঁচ্চো হতে চেয়েছিলাম
প্রেমে ভেসে যাওয়া শহরের পিচ-রাস্তা
আমার দিকে এগিয়ে দিয়েছে এক গ্লাস নীল-আগুন
যে নদীর উপত্যকায় এককালে দেদার তিলচাষ করেছি
লোকমুখে খবর পাই এখন সে তিন ছেলেমেয়ের মা
তবে আজ টো-টো চেপে নগরভ্রমণে বেরিয়ে
নিজেকে বেশ বাবু বাবু লাগছিল
আসলে অনেক ভেবে দেখেলাম
চৌষট্টি-যোগিনীর দোলনকাল
আর কংসাবতী-প্রকল্পের লেবু-লজেন্স

এসব মিলিয়েই তো আমার এই ঘোলখাওয়া-পর্ব 

Sunday, July 23, 2017

ধর্মবদল

অনার্সে চান্স না পাওয়া ছেলেটি দেখে
রাত্রির অন্ধকারে কাঁটাঝোপের মাথায়
কত না জোনাকির ঝিকিমিকি

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসে
শূন্যপুরাণের পাতায় এত সুপুরিবাগান
কোথা থেকে এল

হাটেবাটেমাঠে কোথা থেকে আসে এত চোরাস্রোত
রক্তমাংসের প্রবাহে সপ্তর্ষিমণ্ডলের আঁকিবুঁকিও
                   কিছু কম কথা নয়

আমাদের ঢিলেঢালা ভালোবাসার মুখনিঃসৃত
             এত ঘ্যাঁট ও ঘোঁট
         তার উপর বৃষ্টি পড়ে
রোদ হয়
তারে-মেলা ছাপাশাড়ি ভরে ওঠে কানায় কানায়

পর্ণমোচীর কাছে গিয়ে দাঁড়ালে
ডিওগন্ধে ভরপুর নাগরিক ঢংগুলির
কখন যেন ধর্মবদল ঘটে যায়

আমি বুঝতেও পারি না 

Saturday, July 22, 2017

জানা-অজানা

দেখে যাই নীলপাখির ঠোঁটে
এলোমেলো রূপের পেয়ালা
ঘন লিপস্টিক বলছে চরৈবেতি

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির আসঙ্গে আবার ওই
হুশ করে ছুটে যায় রেলগাড়ি

তোমরা জানো কি কিছু

প্রমাণের অভাব থেকে কেন এত
উঠে আসে ধোঁয়ার কুণ্ডলি

নাকে চশমা বসিয়ে গড়ে তোলা
আদমসুমারিকে নিয়ে
এত যে প্রশ্ন ও সংশয়
তারা আসলে কোন আলোকবর্ষকে পবিত্র করে

বন্ধুত্ব থেকে বন্ধুত্বে গড়িয়ে পড়া
ধ্রুবতারার আলো

লেড়ো-বিস্কুট ও মোচাঘণ্টের ককপিটে
এগরোল-পালনের একঘণ্টা পরে
চিবুকের তিলে সাঁটা ডাঁসা-সংস্কৃতি
হয়ত কিছুটা শীতার্ত হবে

তোমরা কি জানো বাছারা
গেলাসের জলে ছায়া কাঁপে
এক মিথ্যা বন্দরের

কখন কোথায় 

Thursday, July 20, 2017

বহমানতা

ওই তো সেই টইটুম্বুর
যার প্ররোচনায় আমি
সাঁতার-স্কুলে খুলে রেখেছিলাম
কত সব সংকেত-বাক্য

কুরুক্ষেত্র-যুদ্ধের পেট চিরে একদিন  
যে প্রোটিন ও ভিটামিনগুলি উচ্চারিত হয়েছিল
তাদের থেকেও তো কিছু বিদুরের খুদ তুলে এনে
মিশিয়ে নিয়েছিলাম
আমার বিহ্বলতা ও মাটির গন্ধে

চাঁদমালার স্পর্শে রোমাঞ্চিত শ্রেণিকক্ষ
রাত্রির শুভ্রতা বেয়ে কয়েকটি বাদুড় উড়ে যায়

ক্লান্ত জীবন সামলাতে সামলাতে দেখি
মাংস ও প্রতিধ্বনিতে ভেজা মাটিতে
শবসাধনার চিত্রনাট্যে
এখনো বেঁচে আছে
কাটাঘুড়ির বহমানতা
      ও মকর-সংক্রান্তি

তাহলে আর কী
অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে
ভজহরির দোকানে দাঁড়িয়ে

দু-প্যাকেট আমূল-দুধ কিনি   

Wednesday, July 19, 2017

কুলকুণ্ডলিনী

এত দিনে আমি সিদ্ধ-পুরুষ হয়েই যেতাম

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল
কিন্তু বাধ সাধলো কম দামি ইনসুলেটর

প্রথমে ভেবেছিলাম তার সে ঘুম
কুম্ভকর্ণের চেয়ে বেশি

তাই তাকে বিরক্ত না করে মূলাধারের চারপাশে
রাঙামুলোর আবাদ শুরু করলাম

ওমা কী কাণ্ড দেখি একদিন
সেই মুলোর গন্ধে তিনি জেগে উঠছেন

শ্রীমতি কুলকুণ্ডলিনীর পাক খুলছে
ওই তিনি উপর দিকে হাঁটা দিচ্ছেন

ষটচক্র ভেদ করে হয়ত এক সময়
পৌঁছেও যেতেন সহস্রায়

কিন্তু হঠাৎ শর্ট-সার্কিট
ব্যাস সঙ্গে সঙ্গে রাধারমণের গান
অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে

প্রথমে ভেবেছিলাম হসপিটালে গিয়ে
বার্ন-ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে যাই

তারপর দেখলাম না এসব নিয়ে
বেশি লোকজানাজানি করে লাভ নেই

আপাতত তিনবেলা বউয়ের দেওয়া
হোমিওপ্যাথিক বড়ি খাচ্ছি  

আর শো-কেসে সাজিয়ে রাখছি

পোড়া-ফিলামেন্টের দীর্ঘশ্বাস

Monday, July 17, 2017

সংবাদ-বিসংবাদ

যখন অ-বিধি রচিত ভালুক-জ্বরে কেঁপে ওঠা
অথই বানানের পাড়া দিয়ে হেঁটে যাই

আমার হেঁড়ে গলার গান শুনে
রাধা-অভিসারের সেলাই ফেটে
তার চৌচিরে কেন যে তলিয়ে যায়
সাঁঝরাতের এক্সাইড মোড়
         আর কারো এক্কা-দোক্কা খেলা

সখি তাহলে এক লক্ষ বৃষ্টি-ফণা কাকে বলে
কাকে বলে মুখপোড়া জীবনের খাঁজে
বেড়ে ওঠা তালব্য-শ

আমি তো দেখি কাকডাকের ভিতর
লেগ-স্পিনারের মৃদু শিহরণ

ওই তো হাতিশুঁড় নিয়ে খেলতে থাকা শাশ্বতী
তার হাওয়ামহলকে কেমন বলছে
কালির দোয়াত ও হরিণ শিকারের তৃতীয় পঙক্তি

রক্তমাংসের উলুধ্বনি দিয়ে আঁকা ভিক্ষাপাত্রও কি তবে
কিছু আলগা নিঃসঙ্গতা শুষে নিতে পারে

এই সব দু-চার কথা
এইসব অফুরন্ত টকটাইমের প্যাঁচে

পিছলে যায় কত কচুঘন্ট  

তার খবর কে রাখে 

Sunday, July 16, 2017

গায়ত্রীমন্ত্র

এই আগুন-বিশ্বে ছাইপাঁশ হয়ে বেঁচে আছি বলেই কি
জেলি-মোরব্বার টানে বার বার ছুটে আসি
এক ছাতা-হারানো নাট্যকারের গল্পে

মজে যাওয়া মাটি ফেলে বোজানো পাতকুয়োতে গজানো
কচি কুমড়োডগের আতিথেয়তা দেখলে চোখে জল আসে

ফুল ফুটুক না ফুটুক লোকালট্রেনের দহনশীলতা মেখে
কলমিশাকের বনে কারো দাঁড়িয়ে থাকাটিও
বড়ো সুগন্ধ ছড়ায়

তাতে হয়ত গায়ত্রীমন্ত্র কিছুটা কম পড়ে যায়
তবু তার এলোচুলে দোল খায় চোরাবালির জুলুম

বুঝে নিই ঠিক এই সময়ে কারো কারো মগজে
বিস্তর লাল শালুক ফুটছে

যাদের পাশে সাঁতার কাটছে কয়েকটি পাতিহাঁস 

দাঁড়িয়ে থাকার গল্প

কাছাখোলা জন্মভূমি থেকে তো আর
বেশি দূরে যেতে পারি না
তাই তৃতীয় বা চতুর্থজন্মের জন্যে তোলা রইল
ওই শালবনের পিছনে চাবাগান

বুকের কোণে বাদামি অসুখ নিয়ে
স্পর্শযোগ্য মাছেরা ফ্রিকিক মারছে
মায়াপাহাড়ের সানুদেশে ঘনিয়ে উঠছে বর্ষাকাল

তাই ভাবছি ভরসন্ধ্যায় এত দাঁতের ব্যথায়
কাতর হয়ে কীই বা হল রাস্তার জীবন রাস্তাই জীবন
রাস্তা দিয়েই হেঁটে যান সৌধ-কুলীন ঈশ্বর

সঙ্গে চলে তার কুঁজ পুঁজ ও পুঁজিবাদ
সেও তো এক ফাটা-কলসির জল

তখন ভগবান কহিলেন হে অর্জুন
আধারকার্ডের লীনতাপ থেকে উঠে আসা
এই যে এত ব্যাসিলাস তরমুজকক্কাস
একথা যেন কারো কাছে লিক কোরো না

বরং মাঝারাতে বিশ্বসুন্দরীর ঘামের গন্ধে
ঘুম না এলে কোনো প্রত্নতত্ত্বের বই টেনে
তার পাতা উলটে দেখো একটা গাছ আর
তার শেকড়ের কথাই আমি বলছিলাম
ভাবো কী অনায়াস সেই দাঁড়িয়ে থাকার গল্প

Friday, July 14, 2017

শান্তি পায়রা

বিবাহিত মেয়েদের ছন্দে ঘেরা  
এক অক্ষর-প্রাচীন জনপদ

এখানেই ফুলমতির চৌকাঠে আমি  
নির্জন দুপুর হয়ে শুয়ে থাকি

টেবিল-ফ্যানের জমিদারি থেকে দূরে
আহা ওই তো সেই
রুপোলি ষড়যন্ত্রে-ধোয়া হাবুডুবু

আর এই যে এই মধুরেণ থেকেই
বিড়ি-টানা জারণ-বিজারণে যাবার
মিনিবাস-রুট

আমার অর্থহীনতার ভিতর ঘনিয়ে ওঠা
নিম্নচাপের গিঁট খুলে এখানে কি আমি
দু-ফোঁটা বাড়তি বরফজল
  ঝরিয়ে দিতে পারব

কি জানি তা যদি পারি তাহলে হয়ত
আমার ছেঁড়া-পাজামার রক্তবমি-জাত

কিছু শান্তি পায়রাও উড়ে যাবে
বড়ো করে বেজে চলা

গূঢ় নিরুদ্দেশে 

Thursday, July 13, 2017

মোটিভেশন

সাংসারিক ইতিবৃত্তে ভিক্ষুক সেজে
বসে থাকতে আর কাঁহাতক ভালো লাগে

হারানো প্রেমের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে
লুকোচুরি-খেলার রুটম্যাপ খুঁজি

খুঁজতে খুঁজতে যখন খুব ক্লান্ত হই
ভাটিখানার ভরদুপুর ধুয়ে খেয়ে
             কিছুটা নেশাও হয়

হেঁটে বাড়ি-ফেরার স্রোতে তখন
পাল তুলে দেয়
           আমার ঘামেভেজা রুমাল  

এত সংশয় এত উদ্বেগ এত অমীমাংসা
উইডিবির পাশে খাড়া
কতসব প্রশ্নমালা পেরিয়ে যেতে

সুজলাং সুফলাং কাকেদের কণ্ঠস্বরই
হয়ে ওঠে

আমার একমাত্র মোটিভেটর 

Tuesday, July 11, 2017

পদবিহীন

ফলস-পাড় দিয়ে গাঁথা যে অন্দরমহল
সেখানে কি সবুজ মেঘেদের উপনিবেশ

বলেছি তো হলুদ মশারির ইকুয়েশনে
যতই অরন্ধনের বাজনা ঢুকে পড়ুক 

জাদুকরকে কুর্নিশ করে
এবার পাড়ি জমাবো
বেতাজ ভায়োলিনের হিসেব-নিকেশে

তার আগে এই পদবিহীন আকাশের নীচে

প্রাচীন বিশ্বাস কিছু জমা রেখে যেতে চাই 

বানান-বদল

গজদন্তের বিকল্প হিসেবে 
জোনাকির আলোকে কি কখোনো 
প্রথম পছন্দ হিসেবে খাড়া করা যায় 

আমরা কি মেনে নেব শূন্যতার সংবিধানে 
কোকিলের ডাক মানে এক আদিগন্ত উরুবিল্ব

 ভুঁইচাঁপার গ্যালাক্সিতে ওই রাখাল বালকও 
ফিসফিস করে কিছু বলছে 

খুচরো পয়সার প্রয়োজন ঠেলে জীবন এখন
যেন বৃষ্টিদিন টু বৃষ্টিদিন এক দুরন্ত রেলভ্রমণ

 গলায় রুদ্রাক্ষ ঝুলিয়ে 
প্রকৃতিও মাঝে মাঝে নিজের বানান বদলে নেয়

Friday, July 7, 2017

প্রতিবাদ

শাঁখা-পলা পরা হাতের মুঠোয় লুকোনো
ফুলতোলা হ্রেষাধ্বনি  
  এবং বহুবর্ণ বকুলতলার নিম্নচাপরেখা

যেন কত যুগের অপেক্ষা পেরিয়ে এল
নতুন ভোরের এই জলরঙ-খেলা  

গমগমে ঠোঁটের উৎসবে
নীতিবোধ গলে গলে পড়ে

হ্যাঁ-রে সোঁদা-মানুষের উৎসর্গপত্র
ঘোড়দৌড়ের রঙিন ক্যাটালগে
              উপুর হয়ে শুয়ে
এভাবেই তুই ঢেলে যা
তোর আমসত্ত নিবেদিত দারুভাস্কর্য

স্টিমবাথে থর-থর
বাদামি-অসুখ নিয়ে আমিও

পোড়ামাটির বুদ্ধি-তরঙ্গে আবার

মৃদু মৃদু প্রতিবাদ বুনতে শিখি 

রবীন্দ্রগান

এই দেহকাণ্ডের ভিতরে
একটা হ্যাঁ-আমি
         একটা না-আমি

তাদের আড়ি-আড়ি ভাব-ভাব
মনে হচ্ছে আড়াল থেকে
         অন্য কেউ কথা বলছে

এই আমি হয়ত সেই আমি
আমি হয়ত আমার চেয়ে কিছু বেশি
আমি হয়ত আমার চেয়ে কিছু কম

একটা চিহ্নকে হারিয়ে মাড়িয়ে ছাড়িয়ে
আরো কত চিহ্ন-স্বর জমাট বাঁধছে
আমি সকলের সঙ্গেই কুটুম্বিতে করছি

স্ট্রংরুমে জমিয়ে রাখা
কিছু হ্যাঁ কিছু না
কিছু সরলরেখা কিছু বৃত্ত
    একটা তুমি ক্রমশই তুমি হয়ে উঠছ

এই ঝরঝর মুখর বাদল দিনে

এখন তাহলে একখান রবীন্দ্রগান হয়ে যাক 

Thursday, July 6, 2017

স্টেপজাম্প

কালো-রমণীর বাস্তুভিটে
সেখানে 
এক প্রাগৈতিহাসিকের গুপ্তছায়া
            উলু-বাস্তবতার সাপ-সাপ

কেন কেন সে নারীর কথা
বার বার
কেন সে রতির কথা

ঘুড়ি-বার্তায় জ্বলতে থাকা
জলপাই-সংবাদ
             ৭x২৪

ঝিকিমিকি ক্রোমোজোমে বৃষ্টি পড়ে
জটিল ভগ্নাংশের নৃত্যনাট্যে
    পিস-হ্যাভেনে বাজে দেহতত্ত্ব

রূপের পিপাসা জমতে জমতে
             আতা-পাকা
মাছরাঙা ফুল-বাতাসা স্টেপ-জাম্প

পিউপা ও পেন-কিলারের অলি-গলি বেয়ে
পুরোন ডাকবাক্সের হাত ধরে থাকা
                 রূপকথার-ভ্রমণ

যেন আর শেষ হতে চায় না 

Monday, July 3, 2017

কিছু কিছু অনুচ্চারিত



১.
ডালভাতের পদাবলি জুড়ে
হর্টিকালচার হার্টথ্রব ফ্লিপকার্ট

মাহুতবন্ধুর ক্ষেত্রফলে ওই দেখো
অসময়ে ঘুমিয়ে পড়েছে
কাগজে বানানো উড়োজাহাজ

তাকে নিয়ে
গতকাল পূর্ণ-চাঁদের পকেটে
যে ছোটোগল্পটি লেখা হল

আজ তার বাসরঘরে ডিম পারছে
একটি গা-বমি-বমি মেঘলাদিন

২.
বিকেলের ছাদে ঝরে পড়া জুঁইফুলে দেখছি
এখনো রয়ে গেছে

ঘিলু-চুলকোনো এই-আমির
কিছু অনুচ্চারিত অংশ

৩.
কচি লাউডগে জেগে থাকা অনিশ্চিত থেকে
কিছু কিছু নতুন বীজ ও গণিত যখন
কালপুরুষ-বিরচিত ইলিশ-উৎসবে গিয়ে
তাদের নিশ্বাস বায়ু সংগ্রহ করছে

স্লেটে লেখা জীবনের বদনাম ফুঁড়ে
ভুল বানানেরা তখনি
মিছিল করে হেঁটে যাচ্ছে
ভার্চুয়াল পৃথিবীর তীব্র নেগেটিভের দিকে

৪.
নৈরঞ্জজনা নদীতীরে আজো কোনো সুজাতা
হয়ত পায়েস রেঁধে বসে আছে

সীমান্ত পেরিয়ে চুপচাপ
কেউ কেউ আজ বয়ে নিয়ে আসছে

             ব্রিফকেস-ভর্তি ফেক-কারেন্সি 

গোদাপিয়াশাল

তাহলে হুঁজুর
পিয়াশাল নামে একটি হালকা সুগন্ধের আগে
গোদা শব্দটি কতটা মানানসই হবে

একথা ভাবতে ভাবতেই
আবির্ভূত হয় একটি রেলস্টেশন

কিন্তু সিগন্যালের সঙ্গে মতের মিল না হওয়ায়
থেমে থাকে ইঞ্জিন

ট্রেন-ব্যাটা আর নড়তেই চায় না

অতঃপর ভিড় বাস গলঃধরণ করেই
পাড়ি জমাও গন্তব্যের দিকে

এখন প্রশ্ন হচ্ছে
মেরুদণ্ড গাঢ় হোক অথবা পাতলা

গন্তব্যে-পৌঁছনোর উল্লাসটা কি এখন

ঠিকঠাক ডানা মিলতে পারছে

Sunday, July 2, 2017

ফুলমুন-রাত

১.
পা-মচকানো হৃদয়ের কলাপাতায়  
কে এসে আবার

নতুন করে পরিবেশন করে গেল
এক-ঝাঁক বক উড়ে যাওয়া আকাশ

শুধু বক কেন চিলও তো আছে
সেই সোনালি-ডানার চিল

আছে ইতিউতি ঝড়ের কথা
আছে ইতঃস্তত অধঃপতন

জীবনের বাহুপাশে কিছু চিৎকার গুঁজে দিয়ে  
দেখো কেউ হয়ত আবার
কোনো নতুন দেবদূত বানাচ্ছে
২.
হাইহিল-সভ্যতার শুরুতে
যে চাল-কলাইভাজা ছিল
তাকে ঘিরেই এখন অদ্ভূত লোকগান

তাকে ঘিরেই আবার ভূমিকম্পের জাদুঘরে
গাঙশালিকের কণ্ঠনালী ও
কিছু উত্তেজিত অশথপাতা

জিম ও ইজিম থেকে সরে এসে একদিন
দীঘার ঝাউবন ও সমুদ্র-সৈকতের জন্যে
যে ফুলমুন-রাত কেনা হয়েছিল
স্বপ্ন এবং প্রজাপতি এখনো নিয়মিত
তার ইএমআই জমা করে

যদিও আমরা সবাই খুব গোপনে  
জিভের নীচে পুষে রাখছি
      নিজ নিজ ওয়ান-শর্টার

ও হাতবোমা 

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...