Total Pageviews

Sunday, January 14, 2018

উদবৃত্ত দীর্ঘশ্বাসগুলি

তুমুল দুরারোগ্যের দিকে যেতে যেতে
            সে এক বদনাম-বিলাসি ঢেউ
               ওই যে বলে গেল
ডাঁসা-পেয়ারার ডানায় লেপ্টে থাকা
                কত মধুর মধুর হত্যাকাণ্ড

                নিভৃত-প্রাণের ঘুলঘুলিতে
এক অসবর্ণ থেকে আর এক অসবর্নের দিকে
                          ঝুঁকে পড়ে
সে বলে গেল
      খেলনা রেলগাড়ির স্তব-স্তুতি ও মৌ-বন্দরে
পুরোন গ্রামাফোনের ঝুমঝুমি দিয়ে নির্মিত হাতবোমার
এক অদম্য কোজাগরী

আজ যদি কোনো লোকগানের ইসকুলে ভর্তি হয়ে
            দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার
বড়ো-পিসিমার হেঁসেলে ঢুকে পড়ে বাসি-পান্তা খেতে চায়
আজ যদি ভাঙা-কালভার্টে বসে পা-দোলানো অষ্টাদশী
         তার নির্জন বকুল-বনে
এক রাশ অশান্তি কামনা করে

তাহলে শকুন্তলার ছোঁয়া-পাওয়া কাঁঠালপাতারা কি
আমূল বদলে ফেলবে তাদের শস্যগোলার জল-পিপাসা

মেঘে-ঢাকা নৈশ-বিদ্যালয়ে
ফেলে এসেছি আমার কররেখা

কখন কোথায় কে কি করবে
তার আমি কী জানব

তবে আমার ছেঁড়া-শার্টের বুকপকেটে
বুনো-হাঁসেদের এক রাশ অর্কিড-গন্ধ লুকিয়ে রেখে 
প্রজাপতির ভাব ও অভাবের কাছে
বার বার নতজানু হই

আর শীত-সকালের কফিপাত্রের সঙ্গে করমর্দন করে বলি
হে মোমবাতি-লালিত মিথ্যা-রং
তুমি কি শুধু আমার রাহুগ্রস্ত চাঁদকে পুঁজি বানিয়ে
বোধিবৃক্ষের আলফা-বিটায় তুমুল বৃষ্টি নামাতে পারো

আমি তো মেসবাড়ির ম্যানেজারকে বোঝাতে চেয়েছি
কীভাবে প্রতিটি কাহিনির ভেতর
জড়িয়ে যায় মালগাড়ির ভোঁ

বোঝাতে চেয়েছি যখন রোদচশমার আলিঙ্গন
নীলশালুকের গর্ভে ঢুকে
      গভীর জলকন্যার সুরে নহবত বাজাতে থাকে
         আমি তখন ধানমাঠের গুপ্তকক্ষের কাছে
                  একটা পুনর্জন্ম ধার করি

এখন তবে তুমিও আর ফেরিঘাটের জন্মবৃতান্ত জানতে চেয়ে
চালডালের হিসেব-নিকেশের ভিতর
এই রকম চুপ করে বসে থেকো না

বরং মেহগনি রুমালে একবার মুখ মুছে নিয়ে বলো
সামনের হেমন্তে
জলপাত্রের চারপাশে ঝরনা আঁকতে চাওয়া চিত্রকর কি

খুব বুড়ো হয়ে যাবে 

No comments:

অনাসৃষ্টি

  ঝিনুকের পেটে জমে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সোনা-ধোপানির ছোটো বিটিকে একজন উথালপাতাল কোরিওগ্রাফার বানিয়েছে   শতভিষা নক্ষত্র থেকে জল তুলে এনে     ছৌনা...